ইউনূসকে বুঝিয়ে ‘মাস্টারমাইন্ড’ মাহফুজ, যা আজ ভিলেন ন্যারেটিভ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বুঝিয়ে মাহফুজ আলম নিজেকে জুলাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ উপাধি আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাস্টারমাইন্ড উপাধি নিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় ঠেকলো-শব্দটাই একটা নেগেটিভ ও ভিলেন ন্যারেটিভে পরিণত হলো।

সোমবার (৭ জুলাই) নিজের ফেসবুকে ‘জুলাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা ‘মহানায়ক’!! শিরোনামে এক স্ট্যাটাসে এই দাবি করেন শিবিরের সাবেক এই সভাপতি।

পোস্টে জাহিদ লেখেন, জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ স্পিরিটকে নষ্ট করার জন্য এই ২টি শব্দ অনেকাংশে দায়ী। জুলাই পরবর্তী অল্প কিছুদিনের মধ্যে মাহফুজ আলম একটা টেকনিক নিলেন-ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে বুঝিয়ে উনার মাধ্যমে জাতিসংঘে নিজেকে জুলাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ঘোষণা দিলেন।

তার ভাষ্য, এরপর অনেকেই বিভিন্নভাবে নিজেদেরকে মাস্টারমাইন্ড দাবি করা শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় ঠেকলো-মাস্টারমাইন্ড শব্দটাই একটা নেগেটিভ ও ভিলেন ন্যারেটিভে পরিণত হলো।

তিনি আরও লেখেন, কিছু সমন্বয়ক জুলাইকে আওয়ামী স্টাইলে ৭১-এর মতো বিজনেস কার্ড হিসেবে ব্যবহার করে ‘সমন্বয়ক’ শব্দটিকে হিরোইক পজিশন থেকে একটা লজ্জাজনক শব্দে ঠেলে দিলেন। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ আর সমন্বয়ক পরিচয় না দিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিতে লাগলেন।

গতকাল সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, একটি ভিডিও নজরে আসলো, যেখানে জনাব সারজিস আলম আমাদের জুলাইয়ের সহযোদ্ধা ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জুলাইয়ের মহানায়ক হিসেবে উপস্থাপন করলেন।

তার মতে, জুলাইয়ের ‘মহানায়ক’ হিসেবে কাউকে ঘোষণা দিতে হলে অবশ্যই শহীদদেরকে দিতে হবে। কারণ তারা হচ্ছে স্যাক্রিফাইসের সর্বোচ্চ বাস্তব সাক্ষ্য। এরপরে আসবে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী ভাই ও বোনেরা।

জাহিদ লেখেন, জনাব নাহিদ ইসলাম সমন্বয়ক হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, ৩ আগস্ট সকল জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে শহীদ মিনারে ১ দফার ঘোষণা দিয়েছেন। এই এক দফার পিছনে জড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস, পলিসি, লজিস্টিক সাপোর্ট, শাহাদাত, রক্ত।

তবে তিনি মনে করেন, নাহিদ ইসলামের অবদানকে বড় করতে গিয়ে তাকে মহানায়ক ঘোষণা দেওয়া-বোকামি ও জুলাইকে সবার করে ভাবতে না পারার প্রতিচ্ছবি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে জুলাই ছিল সকল মজলুমের, সকল মুক্তিকামী জনতার। আমরা কেউ জুলাইয়ের ‘মহানায়ক’ বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ পরিচয় দিতে চাই না। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আল্লাহ যাকে যতটুকু সুযোগ দিয়েছেন বান্দা হিসেবে সবাই ততটুকু কন্ট্রিবিউট করার চেষ্টা করেছেন। চূড়ান্ত সফলতার দানের মালিক তো একমাত্র মহান আল্লাহ।