কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে পৃথক ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলাবাজার এবং বিপুলাসার বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাছিহাটা গ্রামের মৃত ননী মিয়ার ছেলে মো. মোস্তফা কামাল (৬০) এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের খানাতুয়া গ্রামের তাসলিমা আক্তার (৪২)। নিহত তাসলিমা ইসলামী ব্যাংক নাঙ্গলকোট শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. আবু জাফরের স্ত্রী।
লাকসাম হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনি পৃথক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও ১৫ জন আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের খিলাবাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিলেন তাসলিমা আক্তার। এ সময় ঢাকাগামী ‘হিমাচল পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, আজ ভোর পাঁচটার দিকে একই মহাসড়কের বিপুলাসার বাজারের অদূরে কাঁচি নামক স্থানে অন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকাগামী ‘নীলাচল পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বাসের অন্তত ১৬ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে নাথেরপেটুয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মোস্তফা কামালকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করে লাকসাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক দুটি উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লাকসাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহত বৃদ্ধ মো. মোস্তফা কামালের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, খিলা বাজারে নিহত নারীর মরদেহ পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা নিয়ে গেছেন।