মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব

মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য টেকসই জীবিকা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত উইনরকের ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ অ্যাপ ব্যবহার করে ডিজিটাল রিচার্জসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আয় করার সুযোগ পাবেন। 

এ অংশীদারিত্বের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে উপার্জনের পাশাপাশি নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করবেন। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয় টাইগার্স ডেনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বাংলালিংকের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডিরেক্টর মো. মেহেদী হাসান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত। চুক্তি স্বাক্ষর প্রসঙ্গে মো. মেহেদী হাসান বলেন, “উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টেকসই আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।” বাংলালিংক পাওয়ার ডিজিটাল অপারেটরটির একটি সামাজিক পরিবেশনা (সোশ্যাল ডিস্ট্রিবিউশন) প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জ বিক্রি করে আয় করা যায়। কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই তরুণ, নারী, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে আয় করতে পারেন। 

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে ক্ষমতায়নের পাশাপাশি বাংলালিংক পাওয়ারের নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং নিজ নিজ কমিউনিটির অন্যদেরও এর আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটিতে সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ডিজিটাল কেওয়াইসি যাচাই, তাৎক্ষণিক কমিশনের হিসাব দেখার সুবিধা এবং স্বচ্ছ পুরস্কার ব্যবস্থাপনা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের সহজেই এতে যুক্ত হয়ে তাদের আয়ের হিসাব পরিচালনায় সহায়তা করবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাসনুন হক। 

এ উদ্যোগ সম্পর্কে তাইমুর রহমান বলেন, “মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করছে উইনরক। তাদের এ মহতী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে বাংলালিংক গর্বিত। একই সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সমাজের সব নারীর ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে জিএসএমএ (গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশন)-এর ‘কানেক্টেড উইমেন’ উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।” 

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত বলেন, “টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরিতে ডিজিটাল দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য। বাংলালিংকের সঙ্গে এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের মানব পাচারপ্রবণ ১০টি জেলার নারী ও পুরুষকে প্রায়োগিক ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ধরনের হাতে-কলমে শেখানো দক্ষতা তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষম হতে সহায়তা করবে।” প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং এ ধরনের অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য উপার্জন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে বাংলালিংক। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিরই অংশ এই উদ্যোগ।