নির্বাচন ও শিল্পীদের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন মুনমুন

ঢালিউডের একসময়ের কমার্শিয়াল সিনেমার অপরিহার্য নায়িকা মুনমুন এখন সিনেমায় অনেকটাই অনিয়মিত। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব এই অভিনেত্রী। সদ্য চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন তিনি। কিন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় নিয়েই মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ফেসবুকে লম্বা এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। 

সেখানে এই নায়িকা লিখেছেন, ‘ভেবেছিলাম এবারের শিল্পী সমিতির ইলেকশন নিয়ে কোনো কানাঘুষা কিংবা একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের অভিযোগ হবে না। তবে আমার সেই ধারণা ভুল। এবারও নাকি টাকার খেলা হয়েছে! অভিযোগ করে অনেকেই লাইভ করছেন লাইভে শিল্পী হয়ে আরেক শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। আসলে এত অভিযোগ করা লাগত না, টাকাও ছেটানো লাগত না; যদি আমাদের চলচ্চিত্রটা আগের মত সচল থাকত।’ 

মুনমুন লিখেছেন, ‘এই জন্যই কয়েকদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে আমি বলেছিলাম আমাদের শিল্পীদের পুনর্বাসন দরকার, শিল্পী হয়ে বেঁচে থাকা খুবই কষ্টের, একজন সরকারি কর্মকর্তা বয়স হয়ে গেলে তিনি পেনশন পান, কিন্তু শিল্পীরা কি পায়? শিল্পীরা ফেসবুকে একটা সাধারণ পোস্ট করতে গেলে কিছু জনগণের তিরস্কার, ধর্মীয় পরামর্শ, আর একগাদা গালি ছাড়া হয়ত তেমন কিছুই পান না। আর শিল্পীদের বয়স হয়ে গেলে তাদের খোঁজ নিতেও কোনো সমিতি সভাপতি রাজনৈতিক নেতারাও যান না।’ 

আক্ষেপ করে মুনমুন বলেন, সেখানেও জনগণের তিরস্কার উপহারস্বরূপ পেতে হয়, সারা জীবন অভিনয় করে খেয়েছে পাপ কাজ করেছে আজকে দেখ কি অবস্থা! এগুলোই কমেন্টে লেখা হয়। তাই নবনির্বাচিত শিল্পী সমিতির সকল সদস্যদের অনুরোধ করে বলছি আপনারা কোনো দ্বন্দ্বে জড়াবেন না, নিজেদের সাথে নিজেরা কাদা ছোড়াছুড়ি করবেন না। মনে রাখবেন, থুথু আকাশে ফেললে সেটা নিজের মুখেই পড়ে।’ 

সবশেষে এই অভিনেত্রীর বক্তব্য, ‘সময় এসেছে নিজেদের জন্য ভাবার, প্রতিটা শিল্পী যেন অভাবে না পড়েন, ভালো থাকে তাদের সুচিকিৎসা যেন হয় , তারা যেন অন্তত জনগণের ভৎসর্না আর তিরস্কারের শিকার আর না হন। শিল্পীদের একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা যেন হয় যেখানে সব শিল্পীদের বাসস্থান হবে সবাই একসাথে মিলে-মিশে থাকতে পারবে। শিল্পীরা সবাই যদি ভালো থাকে তাহলে আর টাকা ছিটানো লাগবে না, শিল্পী সমিতির ইলেকশন হবে আনন্দের, যে পরাজিত হবে হাসিমুখে মেনে নেবে।’