দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে উটপাখির ডিম থেকে ছয়টি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত পল্লীতে উটপাখির সফল প্রজননের খবরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের উদ্যোক্ত ইঞ্জিনিয়ার রইচ উদ্দীন মিঞা বাবুল জানান, সাড়ে তিন মাস আগে ঢাকা থেকে দুটি উটপাখি আনা হয়। আনার ১ সপ্তাহ পর ২৪টি ডিম দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে পাঁচটি ডিম দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের গবেষণাগারে ইনকিউবেটরে ও নিজ বাসায় দুটি ডিম ফুটানো সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে একটি বাচ্চা মারা গেছে। বাচ্চাগুলোর ওজন ১০০০ গ্রাম। বাসায় আরও আটটি ডিম বসানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ডিম ফুটতে পারে।
উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. আব্দুর রহিম গত সোমবার রাতে এই চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে আসেন।
ডিএলও ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, পার্বতীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে উটপাখির বাচ্চা লালন-পালন করা হচ্ছে এটা খুবই আশাব্যঞ্জক। দুয়েকটি জায়গায় উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নিলেও এক সপ্তাহের বেশি টিকেনি। উটপাখির মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। হাবিপ্রবিতে প্রায় ৬ বছর ধরে উটপাখির বংশবৃদ্ধি, বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির চাষ করে দেশে প্রোটিনের জোগান দেওয়ার বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রত্যন্ত পল্লীগ্রামে ছায়া সুন্দর নিবিড় পরিবেশে ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নেওয়ায় এই মিনি চিড়িয়াখানায় উটপাখির বংশবিস্তারে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিল। এই খামারে আগামীতে আরও ভালো কিছু করবে।
হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রাশেদুল ইসলাম দৈনিক দেশ রূপান্তরকে জানান, মরুভূমির উষ্ণ আবহাওয়ায় উটপাখির প্রচ- গরম সহ্য করার ক্ষমতা আছে, বৃষ্টি ও শীতপ্রধান এলাকায়ও উটপাখি সহজেই খাপ খাইয়ে চলতে পারে। উটপাখির একটি ডিমের ওজন এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ডিম দেওয়ার সময় মার্চ-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মৌসুমে একেকটি উটপাখি ৬০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে ৪২ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। তিনি জানান, একটি উটপাখির বাচ্চা আমদানিতে খরচ হতো ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এখন এখানেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো সফল হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হলো।
মরুভূমির প্রাণী দুম্বা ও বিদেশি ছাগলের খামার ‘আবু তাহের মিঞা এগ্রো ফার্ম’ নামে ২০২১ সালের মার্চ মাসে ৩ একর জায়গা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা করে। এখন চিত্রা হরিণ, ইমু পাখি, ময়ূর, তিন পা শাহীওয়াল গরু, জার্মান স্পিস কুকুর, অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু, চীনা হাঁস, ককাটেল পাখি, বিদেশি কুকুর, ব্রাহমা মোরগসহ নানা প্রজাতির পশু-পাখি রয়েছে।
উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. রইচউদ্দিন মিঞা বাবলু জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে আটটি উটপাখি রয়েছে। উটপাখির খাবার খুব একটা ব্যয়বহুল নয়। ঘাস, গাছের পাতা, কলমি শাক, জিরো ফিড ও চুনা পাথর খেতে দেওয়া হয়। উৎপাদন সফল হলে প্রয়োজনের অতিরিক্তগুলো বিক্রি করে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে বিরল প্রজাতির প্রাণী সংগ্রহের ইচ্ছা রয়েছে বলে তিনি জানান।
‘দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক’-এ টিকিট মূল্য ৫০ টাকা। শিশুদের অবসর বিনোদন, খাবার ও খেলাধুলার জন্য নানা ব্যবস্থা রয়েছে।