বংশালে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের অভিযোগ

রাজধানীর বংশালের নাজিমুদ্দিন রোড এলাকার একটি বাসায় মো. সুমন (৪০) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। হত্যার অভিযোগে পুলিশ তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে (৩২) আটক করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সুমন হবিগঞ্জের কমলগঞ্জ থানার ডালু গাছবাজার এলাকার নবী মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। নাসিমাও বার্ন ইউনিটে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে চাকরি করেন।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে নাসিমা গুরুতর আহতাবস্থায় সুমনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নাসিমা আক্তার বলেন, ‘যে বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেই বাসায় আমি মেয়ে নিয়ে থাকি। সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলিও একই এলাকায় থাকেন। আমিও বার্ন ইউনিটে চাকরি করি। সোমবার রাতে সুমন আমার বাসায় আসে। সোমবার রাতে বাথরুমে বসে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে। এরপর বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য সকালে যখন ওয়্যারড্রব খুলি, তখন দেখি আমার দেড় হাজার টাকা নেই। এ বিষয়ে সুমনকে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে অস্বীকার করে।  পরে স্বীকার করে এবং ফেরত দেবে বলে জানায়। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে সুমন আমাকে চড়-থাপ্পড় মারে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হঠাৎ দেখতে পাই সুমনের বুকের বাম পাশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তখন আশপাশের লোকজনের সহায়তায় সুমনকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

নাসিমা বলেন, ‘ধস্তাধস্তির ঠিক কোনো মুহূর্তে এ ঘটনাটি ঘটেছে, নাকি সুমন নিজেই করেছে সেই বিষয়টি দেখতে পাইনি। আমি যদি তাকে হত্যাই করতাম, তাহলে আমার ২১ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যেতাম। হাসপাতালে সুমনের প্রথম স্ত্রীর লোকজন আমাকে মারধর করে।’

অন্যদিকে হাসপাতালে সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার বলেন, সুমন মাদকাসক্ত ছিল। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। দ্বিতীয় স্ত্রী সুমনকে হত্যা করেছে।