নড়াইলে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ছাত্রকে মারার জন্য দেড় লাখ করে টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে দাবি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ১১ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই মাস আসায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পারলে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেনÑ বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮), সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী গ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), লোহাগড়ার চাচই গ্রামের আরব শিকদারের ছেলে ইমন শিকদার (২৪), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাচই গ্রামের সাইফুল জমাদ্দারের ছেলে মো. মিলন জমাদ্দার (২৯), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), কাশিপুর ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মো. সজীব চৌধুরী (২৬), লোহাগড়ার কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার নড়াইল গ্রামের মহসীন বিশ্বাসের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) ও সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের সিবানন্দপুর গ্রামের আজগর শেখের ছেলে মো. জুবায়ের শেখ (২০)।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই মাস ফিরে আসায় আওয়ামী লীগের লোকজন পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থেকে তারা হুমকি দিচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে আমরা প্রস্তুত আছি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।’
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের একজন আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশকেই চিনি না। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাকেও আমি চিনি না। তাই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কী ভিত্তিতে আনা হয়েছে, সেটি আমার বোধগম্য নয়। যদি উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হোক। মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দিয়ে কাউকে সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা কখনোই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে না। সত্যের জয় হবেইÑ এই বিশ্বাস রাখি।’
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।