টানা ভারী বর্ষণ: সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ এসে উপকূলে আছড়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও আবহাওয়া সূত্র জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত টানা চারদিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিনসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে তীব্র দমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়ার কারণে সাগর আরও বেশি উত্তাল রূপ ধারণ করেছে। মাঝে মাঝে বাতাসের দিক পরিবর্তন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় সেন্টমার্টিনের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে নিচু এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে। হঠাৎ এই জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দ্বীপের উত্তর পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৪৫) বলেন, গত চার দিন ধরে আমরা কার্যত ঘরবন্দি। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে এত উঁচুতে উঠেছে যে আমাদের উঠান ছাড়িয়ে ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি চলে এসেছে। ঘরের চাল-ডাল সব ভিজে গেছে, চুলো জ্বালানোর মতো অবস্থা নেই। সাগরের যে গর্জন আর বড় বড় ঢেউ দেখছি, তাতে রাতে চোখের পাতা এক করতে পারছি না।

পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মাঝবয়সী ছালেহা খাতুন বলেন, সাগরের পানি এভাবে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়বে ভাবিনি। ঘরের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আর গবাদিপশু নিয়ে খুব বিপদে আছি। চারদিকে শুধু নোনা পানি। খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি আর জোয়ার যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে আমাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

সেন্টমার্টিন ঘাটের স্থানীয় ট্রলার চালক করিম উল্লাহ জানান, সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় গত ৭ দিন ধরে আমরা কেউ ট্রলার নিয়ে সাগরে নামতে পারছি না। টেকনাফের সাথে যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সাগরে মাছ ধরতে না পারায় আমাদের মতো শত শত দিনমজুর ও জেলে পরিবার এখন চরম খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে। আমরা দ্রুত সরকারি সহায়তার আশা করছি।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বীপের কিছু নিচু এলাকার বাড়িঘর আংশিক প্লাবিত হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিনের বৈরী আবহাওয়া ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। দ্বীপের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকালীন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বীপবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।