পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মধ্যকার বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের করা প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই আশ্বাস দেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রামের ওই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার পাশাপাশি সেখানে একটি পুঁজিবাজার (স্টক এক্সচেঞ্জ) খোলা হয়েছিল, যাতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর বিশেষ অবদান ছিল। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারের মধ্যে বিরাট বৈষম্য বিরাজ করছে। এই বৈষম্য দূর করা না হলে চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার স্থবির হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় এই বৈষম্য অচিরেই দূর করা হবে কিনা, তা জানতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজের বা দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে—যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে বঞ্চিত (ডিপ্রাইভ) হচ্ছে, সেই বৈষম্যকে দূর করা। পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি সমানভাবে প্রযোজ্য।'

তিনি আরও জানান যে, পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে ইতোমধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে নিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'আমরা অবশ্যই আশা করি যে তারা আমাদের সঠিক পরামর্শ দেবেন। যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও (সিএসই) আমরা ইনশাআল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করব।'

এদিকে, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ইডেন কলেজের নির্বাচিত সাবেক ভিপি ও বর্তমান সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার সবসময়ই নারী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এবার নারীদের স্নাতক (অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও বৃত্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে জেরিন খান বলেন, 'যখনই বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তখনই দেখা যায় নারীর উন্নয়ন, নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত যে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রেখেছিলেন, এবার তা ডিগ্রি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সাবেক এই ছাত্রনেত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'আমি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এদেশের সবচেয়ে বড় মহিলা কলেজ ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলাম। ওই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ইডেন কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তখন ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ইডেনে প্রায় ২৩ হাজার ছাত্রী লেখাপড়া করছে। এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না?” এ বিষয়ে তিনি স্পিকারের সমর্থনও কামনা করেন।

জবাবে সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনার প্রশ্নের কয়েকটি অংশের মধ্যে একটি অংশ সুনির্দিষ্ট। সেজন্য একদম প্রিসাইজ (সঠিক) উত্তরটা শিক্ষামন্ত্রী সঠিকভাবে দিতে পারবেন বলে আমি মনে করি।'

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নারী শিক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'অবশ্যই সবসময় বিএনপি সরকারের অন্যতম মূল পরিকল্পনা ছিল নারী শিক্ষাকে প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার) দেওয়া। বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের (এম্পাওয়ারমেন্ট) জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সরকার মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। আমরা এবার অনার্স বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই। আজকে সংসদের গ্যালারিতে অনেক নারী শিক্ষার্থী উপস্থিত আছে, তারা সরাসরি এই সংসদ দেখছে। শুধু তাই নয়, অনার্স পর্যন্ত যাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করা হবে, তাদের মধ্যে যারা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদেরকে আমরা স্কলারশিপ (বৃত্তি) দিতে চাই।'

এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।