আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের সঙ্গে সম্ভাব্য সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে!

মিসরের বিপক্ষে বিতর্কিত ও নাটকীয় জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিল আর্জেন্টিনা দল। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জেতার পর, ড্রেসিংরুমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে খোঁচা দিয়ে 'ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ' (আর্জেন্টাইনদের ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে গান গেয়ে উদযাপন করেছেন লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজরা।

বৃটিশ দৈনিক দ্য সান-এর সাংবাদিক অ্যালক্স ম্যাককার্থির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে খেলোয়াড়দের এই উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়।

ভিডিওটিতে ইংরেজি সাবটাইটেল যুক্ত ছিল। গানের লিরিক্সে মূলত ৩২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেবার ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসায় ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যাকে আর্জেন্টাইনরা এখনও তাদের ওপর "ডাকাতি" হিসেবে গণ্য করে।

তবে গানের একপর্যায়ে তারা 'মালভিনাস' (ফকল্যান্ডস)-এর কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে প্রায় ১০ সপ্তাহব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ৯০০-র বেশি মানুষ নিহত হন এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ফুটবল মাঠে এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সংঘাতের টানটান উত্তেজনা সবসময়ই একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

বিশ্বকাপের সমীকরণ অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার হতে পারলে সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হবে এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। ১৯৮৬তে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা, যে ম্যাচে ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড গোলের সাথে শতাব্দীর সেরা গোলও আছে। 

এরপর ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ড শেষবার আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল। আর বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শেষ জয়টি ছিল ১৯৯৮ সালে, যেখানে বেকহ্যাম লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই দল আর মুখোমুখি হয়নি।