মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ৬৬ পদক অর্জন

মিরসরাই উপজেলার সন্তান, ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশ (আইওবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুদ্দীন নিশানের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ১৮ জন শিক্ষার্থী ইংলিশ ওয়ার্ল্ডকাপ ও সায়েন্স অলিম্পিয়াডে মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক পদক ও বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশ।


টিএমপি লিটল সায়েন্টিস্ট রিচার্চ একাডেমি আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়ায়। গত রবিবার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি মালয়েশিয়া-এর অডিটোরিয়ামে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ীদের হাতে পদক, ট্রফি ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ দলের অর্জনের মধ্যে রয়েছে ২৭টি গোল্ড মেডেল, ৪টি সিলভার মেডেল, ৩টি প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড, ২টি ডায়মন্ড অ্যাওয়ার্ড, ৯টি আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং, ৪টি ডিন অ্যাওয়ার্ড, ৪টি কাজাকিস্থান স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড, ৪টি বেস্ট প্রেজেন্টেশন ও বেস্ট এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড, ১টি জাজেজ চয়েস অ্যাওয়ার্ড, মালয়েশিয়া স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড, এবং ১টি সায়েন্স প্রেজেন্ট অ্যাওয়ার্ড। অংশগ্রহণকারী ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জনই অন্তত একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।

সম্মেলনে মোহাম্মদ আরহাম জোহান সর্বোচ্চ ১৩টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এছাড়া অনিরুদ্ধ নিলাদ্রি বিশ্বাস ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ সম্মাননা সায়েন্স প্রেজেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।

প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের সদস্যরা মালয়েশিয়ার জাতীয় জাদুঘর, পেট্রোনাস যমজ টাওয়ার, ইস্তানা নেগারা (মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদ) এবং ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়া ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

আন্তর্জাতিক এই সফরে কামরুদ্দীন নিশান সায়েন্স এন্ড ইনোভেশন প্রোজেক্ট জাজ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সমন্বয় করেন।

প্রতিক্রিয়ায় কামরুদ্দীন নিশান বলেন, মিরসরাইয়ের একজন সন্তান হিসেবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই ৬৬টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের মেধা, সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি। আমরা চাই ভবিষ্যতে দেশের আরও বেশি শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরুক।

উল্লেখ্য, কামরুদ্দীন নিশান মিরসরাই উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ওসমান আলী ভূঁইয়া বাড়ির সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে আসছেন। তার নেতৃত্বে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশ (আইওবি) বর্তমানে গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, রোবোটিক্স, স্টেমসহ ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ও একাডেমিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে।

এছাড়াও তিনি মিরসরাইয়ের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইগনাইট মিরসরাই-এর প্রতিষ্ঠাতা। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিরসরাইয়ের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার সচেতনতা এবং নতুন প্রজন্মকে যুগোপযোগী দক্ষতায় গড়ে তোলার লক্ষে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় তরুণদের জন্য ইগনাইট মিরসরাই বর্তমানে একটি অনুপ্রেরণামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।