দ্বিগুণ প্রতিশোধের হুঁমকি ইরানের

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে এবং প্রতিটি হামলার জবাবে দ্বিগুণ প্রতিশোধ নেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হামলার হুমকির জবাবে পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এর ইংরেজি চ্যানেল প্রেস টিভি এক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হলে দেশটি পাল্টা অন্তত দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। সূত্রটি আরও বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এই অঞ্চলে তার অংশীদারদের মধ্যে ইরান কোনো পার্থক্য করে না।

এদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘মৃত্যু’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা’ করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অঞ্চল ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাদের মিত্রদের মোকাবেলার জন্য ইরানের এখন ‘আরও স্পষ্ট ম্যান্ডেট’ রয়েছে।

এর আগে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘আগুন’ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত একটি ‘অত্যন্ত বড় সামরিক সাফল্য’ ছিল এবং এর ফলে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের আঙ্কারায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের আলোচকরা ‘একটু পাগলাটে, তারা একটু উন্মাদ’। তিনি দাবি করেন, এক দিনের মধ্যে তাদের সব বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে... সবকিছু শেষ। তাদের নেতারাও আর নেই।’  তিনি আরও বলেন, “তাদের আরেক দল নেতা আছে, তারাও হয়তো আর থাকবে না। কে জানে? আমিও নাও থাকতে পারি, কারণ আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।

অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারের ওপর হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ধারাবাহিক সামরিক হামলা শুরু করার পর, বুধবার বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে তেহরান।

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর সর্বশেষ আঘাত হিসেবে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানায় যে, তারা বাহরাইনের পঞ্চম নৌ জেলার বন্দর সালমান এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে একটি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালিয়েছে এবং এই অভিযানে হস্তক্ষেপের চেষ্টাকারী একটি মার্কিন এমকিউ৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে একটি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী বলেছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবিলা করছে। এর আগে প্রণালীতে তিনটি ট্যাংকারের ওপর হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালায় এবং ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দেয়া লাইসেন্সটি বাতিল করে দেয়।

ইরানের আইআরজিসি বলেছে, এই হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের সংস্থাটি আরও জানায়, বুধবার দিনের  শুরুতে হরমোজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় ঘাঁটি এবং অসামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বিমান হামলার পর, যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে এই অভিযানটি ছিল একটি প্রাথমিক জবাব।

আইআরজিসি মঙ্গলবারের মার্কিন হামলাকে ইরানের প্রয়াত নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত করেছে এবং বলেছে যে ওয়াশিংটন এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ম্লান করার চেষ্টা করছে। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কয়েক দফা বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থানে বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার এই হামলা শুরু হয় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি হামলার জবাবে এটি চালানো হয়, জানায় যুক্তরাষ্ট্র।