টানা বর্ষণে মিরসরাইয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা চারদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আউশ রোপা, আমন বীজতলা ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। পাহাড়ি ঢলে অনেকে রাস্তা-ঘাট ভেঙে গেছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহওয়ার কারণে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বুধবার (৮ জুলাই) উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ও বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, পানিবন্দি মানুষের পাশাপাশি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা ও শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন খাল-ছরায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। অনেক বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। উপজেলার খৈয়াছরা, ওয়াহেদপুর, কাটাছরা, ইছাখালী ইউনিয়ন, মিরসরাই পৌরসভা, বারইয়ারহাট পৌরসভার বিভিন্ন বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও সংযোগ সড়ক ঢুবে গেছে।

উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ৬ শতক জমিতে আমনের বীজতলা বসিয়ে ছিলাম। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের কারণে সব তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি কমলে আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে।

ওচমানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আলা উদ্দিন জানান, এমনিতে জোরারগঞ্জ-মুহরী প্রজেক্ট সড়কের বেহাল দশা। টানা বৃষ্টিতে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। টেকেরহাট সড়কের অবস্থাও খুব নাজুক। মানুষ চলাফেরা করতে অনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, বৃষ্টিতে আউশ রোপা, আমন বীজতলা ও সবজিক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। মাঠে পরিদর্শন করে ইতোমধ্যে তালিকা তৈরি করেছি। ৫০ হেক্টর আউশ, ৫ হেক্টর আমন বীজতলা, ১৫ হেক্টর গ্রীস্মকালিন সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, টানা চারদিনের বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। আমরা শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।