কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের ওপর বিশাল একটি গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও চালকসহ ভেতরে থাকা সব যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই টেকনাফ উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস ও টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। দুপুরের দিকে টেকনাফমুখী একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস কানজরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় রাস্তার পাশের একটি বিশাল রেইনট্রি গাছ শিকড়সহ উপড়ে সরাসরি চলন্ত গাড়িটির ওপর আছড়ে পড়ে। গাছের প্রচণ্ড আঘাতে মাইক্রোবাসটির ছাদ ও সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভেতরে থাকা যাত্রীরা নিরাপদে গাড়ি থেকে বের হতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় করাত দিয়ে গাছ কেটে সড়ক থেকে অপসারণ করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সড়কটি পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এবং দমকা হাওয়ার কারণে গাছটি উপড়ে চলন্ত গাড়ির ওপর পড়ে। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের নিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়েছে।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত গাছটি সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আরোহীরা সবাই নিরাপদে আছেন।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বৈরী আবহাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির সময় মহাসড়কে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বড় গাছের নিচে অবস্থান না করা এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।