আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিদের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ পক্ষপাতিত্ব ও দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তোলে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর পুরো টিমকে বিশ্বকাপ থেকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক দাবিও জানায় তারা। তবে মিশরের এই তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগের মুখে রেফারিদের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া জবাব দিয়েছেন ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা।
বুধবার ফিফার ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে কলিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মাঠের রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই এবং ফিফার রেফারিদের ওপর কোনো প্রকার বাহ্যিক প্রভাব খাটানো অসম্ভব।
মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার চেষ্টার অভিযোগ
মঙ্গলবারের সেই নাটকীয় ম্যাচে এক পর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের তিন গোলে ম্যাচ হারে মিশর। ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান ক্ষোভ উগরে দিয়ে ম্যাচটিকে 'অন্যায্য' আখ্যা দেন এবং ইঙ্গিত করেন যে ফিফা হয়তো আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, "সম্ভবত তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল লিওনেল মেসি যেন আরও দীর্ঘ সময় এই প্রতিযোগিতায় থাকেন।"
বিতর্কিত ৩টি সিদ্ধান্ত ও কলিনার যুক্তিভিত্তিক ব্যাখ্যা
মিশরের আপত্তির মূল জায়গা ছিল ম্যাচের শেষভাগের তিনটি ঘটনা। কলিনা একে একে সবকটি ঘটনার রেফারিদের নেওয়া সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন:
১. জিকোর গোল বাতিল: জিকো গোল করে ব্যবধান ২-০ করার আগেই বিল্ড-আপে মারোয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে মাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভিএআর দেখে সেই গোল বাতিল করা হয়। কলিনা বলেন, 'ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে আতিয়া প্রতিপক্ষের পায়ে পা দিয়ে আঘাত করেছেন। ফাউল মানে ফাউলই। রেফারি না দেখলেও ভিএআর এখানে হস্তক্ষেপ করার পূর্ণ অধিকার রাখে।'
২. মোহাম্মদ সালাহ-র পেনাল্টি আবেদন: ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে হুলিয়ান আলভারেজের চ্যালেঞ্জে সালাহ পড়ে গেলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। কলিনা বলেন, 'ডিফেন্ডার যদি প্রথমে বল স্পর্শ করেন এবং তারপর সাধারণ ফুটবলীয় সংঘর্ষ হয়, তবে তা ফাউল নয়। রেফারি এবং ভিএআর প্যানেল সালাহ ও আলভারেজের ঘটনাটিকে সাধারণ ফুটবলীয় কন্টাক্ট হিসেবেই সঠিক বিবেচনা করেছেন।'
৩. এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল: অতিরিক্ত সময়ে এনজোর করা জয়সূচক গোলের ঠিক আগের মুহূর্তে মিশরের হামদি ফাথিকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার টেনে ধরেছিলেন বলে দাবি করে মিশর। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যান এবং সেই আক্রমণ থেকেই গোল পায় আর্জেন্টিনা। কলিনা এই সিদ্ধান্তের পক্ষেও রেফারির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
'ফিফা প্রেসিডেন্টও রেফারিদের প্রভাবিত করতে পারেন না'
তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কলিনা বলেন, ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা চলতেই পারে, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের অপবাদ মাঠের কর্মকর্তাদের এবং তাদের পরিবারকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর মধ্যকার আলোচনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেও কলিনা সাফ জানিয়ে দেন, 'কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফার রেফারিরা কারও দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, এমনকি ফিফা সভাপতিও রেফারিদের ওপর কোনো প্রভাব খাটাতে পারেন না।'
মিশরের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তি স্বীকার করলেও, ফিফা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কোনো ম্যাচ অফিসিয়ালের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অনৈতিক প্রমাণ ছাড়া মাঝ-টুর্নামেন্টে তাদের বহিস্কার করার কোনো নজির ফিফার ইতিহাসে নেই।