তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে (খালিশাচাপানি বাইশপুকুর) বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার সমান দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে বিকাল ৬টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার (৫২.১৪) নিচে ছিল।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬ হতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৩ ঘন্টায় তিস্তার পানি ২১ সেন্টিমটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ১০ সেন্টিমিটার, বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টায় আরও ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, সন্ধ্যা ৭টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমা বরাবর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তবে প্রবাহিত পানি লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে পারে।

তিনি আরও জানান, পানির চাপ কম থাকায় রাতেই পানি কমে আসবে।

এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল এলাকায় পানি প্রবেশ করছে বলে চর এলাকার বাসিন্দারা জানায়।

উল্লেখ্য, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৩ জুন। সেসময় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি নেমে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জুন বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছিল। যার ১২ ঘন্টা পর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এরপর গত ৭ জুলাই তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৮টার দিকে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।