নাটোরের গুরুদাসপুরের যুবক ইমামুল ইসলাম (২০) বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় পরিবারের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন উন্নত চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার কৃষক বাবা সুজন আলী। ছেলেকে বাঁচাতে তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তা চেয়েছেন।
ইমামুল উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি জটিল রোগে ভুগছেন। বর্তমানে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, তার সুস্থতার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা জরুরি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইমামুলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস মুদি দোকান এবং প্রায় দুই বিঘা জমি বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে দিনমজুরির আয়ে কোনো রকমে সংসার চলছে। এর মধ্যেই ইমামুলের মা শিল্পী বেগম বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং দাদি আবেদা বেগম পক্ষাঘাতে ভুগছেন। চার সদস্যের পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সুজন আলী।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আছেন ইমামুল। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় তার শরীর কঙ্কালসার হয়ে গেছে। পাশে উদ্বিগ্ন মুখে বসে আছেন বাবা-মা।
ইমামুলের মা শিল্পী বেগম বলেন, ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমার ছেলে স্বাভাবিক ছিল। এরপর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করানো হয়েছে। কিন্তু অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে জমি ও দোকান বিক্রি করতে হয়েছে।
সুজন আলী বলেন, ছেলের চিকিৎসা, স্ত্রীর চিকিৎসা আর বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ-সব মিলিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। এখন আর উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। আমার ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা চাই।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিবারটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
অসহায় পরিবারটি ইমামুলের জীবন রক্ষায় দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছে।