শত ব্যস্ততার পরও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততা, একের পর এক সরকারি কর্মসূচি, সংসদ অধিবেশন এবং এদিনের সর্বশেষ কর্মসূচি দীর্ঘ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক; সবকিছুর শেষেও ক্লান্তি যেন ছুঁতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। কারণ, দিনের শেষ প্রহরে অপেক্ষায় ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্নবাহীরা, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাতে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সংসদ অধিবেশন সরাসরি দেখা তো দূরের কথা, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এভাবে দেখা করার সুযোগ তারা কখন কল্পনাও করেনি। তাদের কাছে এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। দেশ ও জাতি গঠনে নিজেদের দক্ষ, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন তিনি। শিক্ষকদের প্রতিও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

আগামী দিনের দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১২৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৪৩ জন শিক্ষক জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পান।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ শিক্ষা সফরে তারা প্রথমে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও এলডি হল ঘুরে দেখেন। পরে বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনের অনন্য স্থাপত্য, মনোরম ক্রিসেন্ট লেক, অধিবেশন কক্ষ এবং সংসদ গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। তারা চলমান বাজেট অধিবেশনও সরাসরি উপভোগ করেন।

এর আগে দিনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এরপর জাতীয় সংসদে ওয়াকফ বিষয়ক প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা, দীর্ঘ সংসদ অধিবেশন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট বৈঠক এবং রাতের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক; সব মিলিয়ে ছিল ব্যস্ততায় ভরা একটি দিন।

কিন্তু সেই ব্যস্ততার শেষেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সময় বের করে প্রধানমন্ত্রী যেন আরেকবার জানিয়ে দিলেন রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তোলাও তাঁর অগ্রাধিকারের অন্যতম অংশ।