বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া কিশোর পর্যটক আসাদুলের (১৬) মরদেহ চার দিন পর সৈকতের চর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণ দিকের চরে স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ খান বিভিন্ন মালামাল সংগ্রহ করতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পরে তিনি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তালতলী থানা পুলিশ ও নিদ্রা-ছকিনা নৌ পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছে। মরদেহের একটি হাত বিচ্ছিন্ন ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের মো. মুসার ছেলে আসাদুলসহ পাঁচ বন্ধু শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান। একপর্যায়ে তারা গোসল করতে সমুদ্রে নামলে কয়েকদিনের নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোতে ভেসে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আসাদুল নিখোঁজ হয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর আসাদুল দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য পোঁতা একটি খুঁটি আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন। পরে একপর্যায়ে তিনি খুঁটিটি ছেড়ে দিয়ে পানিতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে নৌ পুলিশ, তালতলী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিদ্রা-ছকিনা নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সাগর ভদ্র বলেন,স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, সৈকতের চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় চরে পড়ে থাকায় মরদেহের একটি হাত শিয়াল বা অন্য কোনো বন্য প্রাণী নিয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।