মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চাপে পড়েছেন। রাজপরিবারের সদস্যদের কথিত হস্তক্ষেপ এবং সরকারের ভেতরে অসন্তোষের কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আগাম জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করতে তিনি বাধ্য হতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও ২২২ সদস্যের পার্লামেন্টে তার নেতৃত্বাধীন জোটের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ আসন রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় রাজপরিবারের ক্ষমতা ও প্রভাবের কারণে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে জোহর রাজপরিবারের ভূমিকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে হয়। দেশটিতে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের প্রতিবেদন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হওয়ার ঘটনাও নতুন নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের সূত্রপাত জোহরের যুবরাজ ও ভারপ্রাপ্ত শাসক টুংকু ইসমাইলের পদক্ষেপে। তিনি রাজ্যের আইনসভা ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দেন। এ নির্বাচন এবং আগামী আগস্টে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নির্বাচন দুটির ফলই আনোয়ার সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে সেলাঙ্গর রাজ্যের শাসক শূকর খামার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশটির সংখ্যালঘু চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাং ও জোহরের শাসকরা কেন্দ্রীয় রাজস্বের বড় অংশ নিজেদের রাজ্যের জন্য দাবি করছেন। অন্যদিকে নেগেরি সেম্বিলানে রাজপরিবারের দুই পক্ষের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করেছে। এর জেরে মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগেই রাজ্যের আইনসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
৭৮ বছর বয়সী আনোয়ার ইব্রাহিম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে কোনো দল এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১২টি আসন না পাওয়ায় সে সময়ের রাজা, পাহাংয়ের সুলতানের উদ্যোগে আনোয়ারকে প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)-এর সঙ্গে "ঐক্যের সরকার" গঠন করতে হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও আদর্শগত বিভাজন, স্বার্থের সংঘাত এবং জোটসঙ্গীদের চাপের কারণে বড় ধরনের সাংবিধানিক সংস্কার করতে পারেননি আনোয়ার। গত সাড়ে তিন বছরে একাধিকবার তার সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।