হরমুজে ফের অচলাবস্থা, কমেছে জাহাজ চলাচল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের চরম উত্তেজনায় এই পথে নৌযান চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে ১০ হাজার ডিডব্লিউটির (ডেডওয়েট টন) বেশি সক্ষমতার কোনো বড় বাণিজ্যিক জাহাজ নিজেদের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) চালু রেখে এই প্রণালি পার হয়নি। ওমান-সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন কার্যত জনশূন্য।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) যেখানে ৪৫টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছিল, সেখানে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোরে মাত্র ৫টি জাহাজ পার হয়েছে। অথচ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত।

সংঘাতের তীব্রতা নিয়ে আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, মঙ্গল ও বুধবার ইরানের ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর গতকাল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক রহস্যময় বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে।

আঞ্চলিক এই চরম অস্থিরতা সত্ত্বেও শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। আজ ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৭৬ ডলার ৩৭ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে, যা বুধবারের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ কম।

জাপানের ইয়োকাশুকা কাউন্সিল অন এশিয়া প্যাসিফিক স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যাডফোর্ড মনে করেন, হামলা দীর্ঘায়িত হলে জাহাজ কোম্পানিগুলো স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও (ইউকেএমটিও) বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করেছে।