টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ও বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিনভর অব্যাহত বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকায় তলিয়ে গেছে।
কাঁচা ও পাকা সড়কের একাধিক অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বন্যার পানিতে পাইন্দংয়ের ফকিরাচাঁন এলাকা, রোসাংগিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, সমিতিরহাট, সুয়াবিল, বক্তপুর, আব্দুল্লাহপুর ও হারুয়ালছড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার শত শত একর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। এতে আমন ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের ভারি বর্ষণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কৃষক, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে হালদা নদী ও ধুরুং খালের বেড়িবাঁধে কয়েকটি অংশের ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না হলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এবিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, আমরা নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও নদী-খালের বাঁধ পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনের বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।