ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবে গোমতী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে কুমিল্লার আদর্শ সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলে। নিচু জমিতে পানি ঢুকে কোথাও কোথাও আগাম মৌসুমের সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে ফসল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন শত শত কৃষক।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর, ঝাকুনিপাড়া, টিক্কারচর, আমতলি, দুর্গাপুর, বাবুবাজার, বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর ও বুড়বুড়িয়া এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিচু জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। পানি আরও বাড়লে আগাম মৌসুমের লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, চালকুমড়া, ডাঁটাশাকসহ বিভিন্ন সবজি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে অনেক কৃষক অপরিপক্ব সবজি তুলে বাজারজাত করার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক এলাকায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসল তোলারও সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।
বুড়িচং উপজেলার ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক বলেন, প্রায় তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ গোমতীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পুরো ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এখন বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
আরেক কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগেই লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটাশাক, চালকুমড়া ও মুলাসহ বিভিন্ন সবজি তুলে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন তারা। এতে কিছু ফসল রক্ষা করা গেলেও বড় অঙ্কের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে না।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগাম সবজি চাষে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। নদীর পানি বাড়তে থাকলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়ে শত শত কৃষক আর্থিক সংকটে পড়বেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে খরিপ-১ মৌসুম চলমান থাকায় মাঠে সবজি জাতীয় ফসলের পরিমাণ তুলনামূলক কম। পানি সামান্য বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় পানি স্থায়ী হলে বীজতলা তৈরিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, উজানের ঢলে গোমতী নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গোমতী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।