কক্সবাজারে বন্যাকবলিত এলাকায় নিরলস কাজ করছে আনসার 

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা বন্যা ও দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়লে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, জনসচেতনতা সৃষ্টি, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

উখিয়া উপজেলার বালুখালী ও পালংখালী এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা জনগণকে সতর্ক করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য দুর্যোগের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা, পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করা এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং আশ্রয় গ্রহণে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দী মানুষকে নৌকাযোগে উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও মাটি অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া চকরিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সড়কে পড়ে থাকা গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করা হয়।

মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, গৃহপালিত পশু উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি বসবাসের উপযোগী করতে সহায়তা, রাস্তা পরিষ্কার এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদস্যরা দুর্গত মানুষের পাশে থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করেন।

এসব কার্যক্রমে উখিয়া, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলার ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার, আনসার কোম্পানি কমান্ডার, মহিলা আনসার প্লাটুন কমান্ডার, ইউনিয়ন দলনেতা, দলনেত্রী এবং ওয়ার্ড দলনেতাদের নেতৃত্বে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে জননিরাপত্তা, জনসম্পৃক্ততা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন করেন। কক্সবাজারের চলমান বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্ধার, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেরই বাস্তব প্রতিফলন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় তাদের এই আত্মনিবেদিত ভূমিকা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জনসেবামূলক অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।