জকোভিচ কি আর ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারবেন না? 

নোভাক জকোভিচের ট্রফি ক্যাবিনেটে এখনো ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি শোভা পাচ্ছে। ২০২৩ সালের ইউএস ওপেন জেতার পর থেকে তাই সবার একটাই প্রশ্ন, কবে তিনি ছুঁবেন ২৫তম মাইলফলক? কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে এককভাবে টেনিস বিশ্বের চূড়ায় বসার যে প্রত্যাশা, তা যেন এখন জকোভিচের ওপর এক বিশাল চাপের পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত ২৫ নম্বর শিরোপা কি আর কখনোই আসবে? শুক্রবার উইম্বলডন থেকে বিদায়ের পর জকোভিচের নিজের করা মন্তব্যে এখন এমন প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

২০২৩ সালে ইউএস ওপেনে ২৪তম শিরোপা জেতার পর থেকে প্রতিটি গ্র্যান্ড স্লামেই জকোভিচকে ঘিরে ছিল অসামান্য প্রত্যাশা। কিন্তু সেই সাফল্যের পর থেকে ট্রফি জয়ের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। এই সময়ে তিনি মোট ১০টি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েও তার কাঙ্ক্ষিত ২৫তম ট্রফিটি জিততে পারেননি। এর মধ্যে ২০২৪ উইম্বলডনে ফাইনালে হার, একই বছরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে ইয়ানিক সিনারের কাছে হার, ফ্রেঞ্চ ওপেনে চোটের কারণে নাম প্রত্যাহার এবং সবশেষ গতকাল শুক্রবার ২০২৬ উইম্বলডনের সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তারকা ইয়ানিক সিনারের কাছে ৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে সরাসরি সেটে হেরে তার বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। সিনারের শক্তিশালী সার্ভ এবং আগ্রাসী টেনিসের সামনে এদিন নিজের চিরচেনা ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন জকোভিচ।

উইম্বলডনের সেমিফাইনাল হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম নিয়ে চলা অবিরাম জল্পনা-কল্পনায় নিজের চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন জকোভিচ। তিনি বলেন, ‘২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের বিষয়টি আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, এটি সবার পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার। আমার কাছের কিছু মানুষ এবং মিডিয়া, সবাই মিলে আমার ওপর এই মাইলফলকের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। তারা এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যেন আমি নিজেই নিজের জন্য যথেষ্ট নই।’ 

নিজের অর্জনের মূল্যায়ন নিয়ে জকোভিচ ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, ‘চলুন বিষয়গুলোকে যৌক্তিকভাবে দেখি। ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম কি যথেষ্ট নয়? ৪০০ সপ্তাহ বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে থাকা কি যথেষ্ট নয়? মনে হচ্ছে, ১০০টি টুর্নামেন্ট জেতা কারও কাছেই যথেষ্ট নয়, তাদের চাই ১১০টি। এসব কথা শুনতে শুনতে আমি সত্যিই অনেক  বিরক্ত।’ 

নিজের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আসলে সেখানে তিনি সবাইকে বাস্তববাদী হবার আহ্বান জানান। ‘আমাদের অর্জনগুলো নিয়ে আনন্দ উদযাপন করা উচিত। কিন্তু আমি সবাইকে আরও বিনয়ী ও বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানাই। আমি ২৫তম শিরোপা নিয়ে কথা বলতে বলতে ক্লান্ত। এখন প্রশ্ন হলো, যদি আমি আর কখনোই ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জিততে না পারি, তবে কি আমার পুরো ক্যারিয়ারটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হবে? আমি কি ব্যর্থ?’ 

৩৯ বছর বয়সী টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়ে তাই এই প্রশ্নটি বার বারই উঠছে, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তিনি কি আর কোনো মেজর ট্রফি জিততে পারবেন, নাকি ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামেই থামবে তার গতির লড়াই? আপাতত এই বাড়তি চাপের বোঝা ঝেড়ে ফেলে শান্তিতে কোর্টে ফেরার প্রতীক্ষায় রয়েছেন এই সার্বিয়ান মহাতারকা।