ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোলের বলের দাম ১২৫ কোটি!

৪০ বছর আগে ব্যবহৃত, জরাজীর্ণ ও হাওয়া কমে গিয়ে গোলাকার আকৃতি হারিয়ে ফেলা একটি বলের জন্য কেউ কত টাকাই বা দিতে রাজি হতে পারে? অথচ এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং সম্ভবত সবচেয়ে মূল্যবান এক স্মারক। এর উত্তর জানা যাবে আগামী ২২ আগস্ট শনিবার, যখন আমেরিকান নিলাম সংস্থা 'হেরিটেজ অকশনস' এই উন্মুক্ত বিক্রয়ের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।

৩১ আগস্ট শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নিলামের বলটি দিয়েই ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো ম্যারাডোনা তার বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন—যার একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ব্রিটিশ দলের অর্ধেক খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে কাটানোর পর করা ‘শতকের সেরা গোল’ হিসেবে পরিচিত।

নিলামকারীদের মতে ফুটবলের পরম আরাধ্য বস্তু হিসেবে বিবেচিত এই বলটির বিডিং চলবে ২১ দিন ধরে এবং এর ভিত্তি মূল্য শুরু হবে ২.৫ মিলিয়ন ডলার (২,১৯০,০০০ ইউরো) থেকে। হেরিটেজ অকশনস অনুমান করছে যে এর চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার (৮,৭৫৮,০০০ ইউরো) বা তারও বেশি হতে পারে। যদি তাই হয়, তবে এটি ফুটবল স্মারক সংগ্রহের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করবে; যা ক্রীড়া নায়ক, মূল্যবান ঐতিহাসিক বস্তু এবং শৈশবের স্মৃতিকে একত্রিত করে গড়ে ওঠা একটি অর্থনৈতিক ও আবেগঘন শিল্প।

এ যাবৎকাল পর্যন্ত ফুটবলের কোনো স্মারকের জন্য সবচেয়ে বেশি টাকা দেওয়ার রেকর্ডটিও সেই ম্যাচেরই (২২ জুন, ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে খেলা আর্জেন্টিনা ২ - ইংল্যান্ড ১ ম্যাচ)। সেটি হলো সেই নীল রঙের জার্সিটি, যা ম্যারাডোনা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পরেছিলেন—যখন তিনি সেই বিতর্কিত ও শৈল্পিক গোল দুটি করেছিলেন।

জার্সিটি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইংলিশ ফুটবলার স্টিভ হজের কাছে ছিল এবং ২০২২ সালের মে মাসে ব্রিটিশ নিলাম সংস্থা ‘সদবিস’ এটি ৯.৩ মিলিয়ন ডলারে (তৎকালীন সময়ে প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন ইউরো) নিলামে বিক্রি করে, যা ছিল প্রাথমিক মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। যদিও ক্রেতার পরিচয় কখনোই প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন তিনি কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি। জার্সিটি দোহার ‘১২৩ মিউজিয়াম’-এ প্রদর্শন করা হয়েছিল।

সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার স্পর্শ করা বা ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিসই যেহেতু কোটি কোটি টাকায় রূপান্তরিত হচ্ছে, তাই এখন এই বলটি তার জার্সির রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অ্যাডিডাস ব্র্যান্ডের ‘অ্যাজটেকা’ মডেলের এই বলটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে চামড়ার টুকরো ছাড়া কৃত্রিম উপাদান দিয়ে তৈরি প্রথম বল। তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের দীর্ঘ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে বলটি নিজের কাছে রেখেছিলেন। এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে তিনি এটি একটি ব্রিটিশ নিলাম সংস্থা ‘গ্রাহাম বাড অকশনস’-এর কাছে প্রথম নিলামের জন্য হস্তান্তর করেন।

তখন, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ চলাকালীন এক অজ্ঞাত ক্রেতা ২,৩৭০,০০০ ডলারে বলটি কিনে নেন, যা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফুটবল বানিয়েছিল। যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের জাপানি তারকা শোহেই ওহতানির আঘাত করা একটি বেসবল ৪,৩৯২,০০০ ডলারে বিক্রি করে ‘গোল্ডিন’ নিলাম সংস্থা সেই রেকর্ড ভেঙে দেয়। স্পোর্টস কালেকশনের সামগ্রিক রেকড়টির কথা বললে, ১৯৫২ সালের আমেরিকান বেসবল তারকা মিকি ম্যান্টলের ছবি সংবলিত একটি বেসবল কার্ড ২০২২ সালে হেরিটেজ অকশনস ১২.৬ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে ইতিহাসের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।