বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের এক সময়ের এক অজানা অধ্যায় নিয়ে হঠাৎ করেই শোরগোল বলিপাড়ায়। বহু বছর পর দীপিকার সঙ্গে নিজের অতীত প্রেম নিয়ে বিস্ফোরক সব দাবি করলেন অভিনেতা তথা এক সময়ের নামী সুপারমডেল মুজাম্মিল ইব্রাহিম। তার দাবি, ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে মুম্বাইয়ে দীপিকা নাকি প্রায় দুই বছর তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিই দীপিকাকে ছেড়ে চলে এসেছিলেন।
সম্প্রতি ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিদ্ধার্থ কান্নানের একটি পডকাস্ট শো-তে এসে অতীতের এই ধুলোচাপা অধ্যায় সামনে আনেন মুজাম্মিল। তিনি জানান, মায়ানগরী মুম্বইয়ে পা রাখার পর দীপিকার প্রথম প্রেম নাকি ছিলেন তিনিই। ঘটনার সূত্রপাত একটি নামী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ফ্যাশন শোয়ে। মুজাম্মিলের দাবি, সেই সময় মডেলিং দুনিয়ায় তিনি বেশ বড় নাম। দীপিকা তার একাধিক কাজ দেখে আগে থেকেই তাকে চিনতেন এবং প্রথম আলাপেই দু’জনের রসায়ন জমে ওঠে।
পডকাস্টে মুজাম্মিল বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কটা প্রায় দুটো বছর টিকেছিল। ও প্রকাশ পাড়ুকোনের মেয়ে হওয়ায় শুরু থেকেই ভীষণ আত্মবিশ্বাসী ছিল। তখন ও আজকের মতো সুপারস্টার না হলেও ওকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে টুকটাক লেখালেখি হতো।’
তবে এই সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বেশি হইচই ফেলেছে তাদের ব্রেক-আপ বা বিচ্ছেদ নিয়ে মুজাম্মিলের করা মন্তব্য। এই প্রাক্তন সুপারমডেলের দাবি, তাদের সম্পর্কটা কোনো বোঝাপড়ার মাধ্যমে শেষ হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের বিচ্ছেদটা পারস্পরিক সম্মতিতে হয়নি, আমিই ওকে ছেড়েছিলাম। সেই সময়ে আমি ওর চেয়ে অনেক বড় তারকা ছিলাম। আমার মনে হয়েছিল ওর সঙ্গে থাকলে, আমার কেরিয়ার তৈরি হবে না। ওকে ছেড়ে আসার জন্য আমার মনে আজ কোনও অনুশোচনা বা আফসোস নেই। আমি মানসিকভাবে বেশ শক্ত। হ্যাঁ, আজ ও অনেক বড় স্টার আর আমি হয়তো লাইমলাইটে নেই, কিন্তু তা বলে তো আর অতীতটা বদলে যাবে না!’
এখানেই শেষ নয়, মুজাম্মিল আরও দাবি করেন যে, তাদের সম্পর্কের শুরুটাও নাকি দীপিকার হাত ধরেই হয়েছিল। দীপিকাই নাকি প্রথম তাঁকে প্রোপোজ বা প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বিগড়ে যেতে শুরু করায় তিনি নিজেই এই সম্পর্ক থেকে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।
আজকের দিনে দীপিকা পাড়ুকোন যখন গ্লোবাল আইকন এবং বলিউডের প্রথম সারির সফল অভিনেত্রী, তখন মুজাম্মিলের এমন অকপট ও বিস্ফোরক দাবি স্বাভাবিকভাবেই নেটপাড়ায় ঝড় তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ যেমন তাঁর এই স্পষ্টভাষী স্বভাবের প্রশংসা করছেন, তেমনই আবার একাংশ এই দাবির সত্যতা ও টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।