এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আমাজনের বন উজাড়

আমাজনের বনাঞ্চল রক্ষায় নতুন রেকর্ড গড়েছে ব্রাজিল। দেশটিতে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আমাজন বনাঞ্চলে বন উজাড়ের হার এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম এই বন রক্ষায় প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে একে দেখা হচ্ছে।

ব্রাজিলের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএনপিই) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্রাজিলীয় আমাজনে আনুমানিক ১ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় করা হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম। ২০১৬ সালের পর এটিই প্রথমবারের মতো সর্বনিম্ন উজাড়ের হার।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলে বন উজাড় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল ২০২২ সালে। ওই সময় লুলার কট্টর ডানপন্থী পূর্বসূরি জাইর বলসোনারো ক্ষমতায় ছিলেন। সে বছর নিউইয়র্ক শহরের আয়তনের ১৩ গুণ বড় একটি এলাকা বন উজাড় করা হয়েছিল।

বলসোনারো আমাজনে ‘টেকসই উন্নয়ন’ এবং খনিজ উত্তোলনের পক্ষে ছিলেন। তবে সমালোচকদের মতে, তার নীতির ফলে এ অঞ্চলে পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞ আরও বেড়েছে এবং আদিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা ব্রাজিলের পরিবেশগত সম্পদ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলসোনারোকে পরাজিত করেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় বন্ধ করার ব্যাপারে ব্রাজিলের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

লুলা ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরেই ব্রাজিলের বন উজাড়ের হার অর্ধেকে নেমে আসে। এরপর তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।

বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য হিসেবে আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বন উজাড়ের পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। একই সঙ্গে বন উজাড় ব্রাজিলের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের অন্যতম প্রধান কারণ।

সূত্র: রয়টার্স