টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ধারাবাহিক ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এসব এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মাহদী আমিন বলেন, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে উদ্ধার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ইউএনও, ডিসি, এসপি, থানার ওসি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি তদারকি করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের পাশে রয়েছেন।
তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদেরও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন।
মাহদী আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দুই কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী, খাদ্যসহায়তা ও চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাপের দংশনের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ মেরামতের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়েও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা থাকলেও প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করছেন। কেন্দ্র ও স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সব সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।