জাবের-জুমার সঙ্গে বসতে চায় হাদির পরিবার

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার নিয়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ নাকচ করেছে শহীদ ওসমান হাদির পরিবার। পরিবারের দাবি, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে সংগঠনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল জাবের বা ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ দায়িত্বশীলদের কেউ তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেননি। তবে বিষয়টির সমাধানে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেন, ওয়ারিশ-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে কখনো আলোচনা হয়নি। যদি সংগঠনের দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কার কাছে এবং কীভাবে তা হবে, সেটি বর্তমান দায়িত্বশীলদের স্পষ্ট করা উচিত।

গত ৮ জুলাই রাতে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ছয়জন। তাঁরা হলেন চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল জাবের, প্রেসিডেন্ট সালাহ উদ্দিন শুভ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাতিমা তাসনিম জুমা, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ফাহিম আব্দুল্লাহ, অর্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রায়হান এবং উপ-নির্বাহী পরিচালক হাবীবুল্লাহ মিসবাহ।

তাঁদের ভাষ্য, ওসমান হাদি জীবিত থাকতেই কালচারাল সেন্টারকে ‘জনতার আমানত’ হিসেবে পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ছয় মাসেও ওয়ারিশ-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালের আর্থিক হিসাব প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের কথাও জানান।

এ বিষয়ে ফাহিম আব্দুল্লাহ বলেন, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি জানানো হবে। তিনি বলেন, আপাতত নতুন কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠনের পরিকল্পনা নেই। তবে ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার আলাদা সংগঠন এবং ইনকিলাব মঞ্চের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

মাসুমা হাদি বলেন, জুলাই মাসে প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা। এ সময় সংগঠনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি করা প্রয়োজন নেই।

তাঁর অভিযোগ, ওসমান হাদির শাহাদাতের পর সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তবে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ওসমান হাদির আদর্শ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন এগিয়ে নিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার রাতে ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে দাবি করা হয়, মৃত্যুর আগে ওসমান হাদি ‘ইনকিলাব কালচারাল ট্রাস্ট’-এর প্রায় সব দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। সেখানে তাঁর ভাই ওমর হাদিকেও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর কয়েকজনকে বাদ দিয়ে নতুন করে ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা হয়, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

ওই পোস্টে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ট্রাস্ট গঠন, ২১ সদস্যের সম্প্রসারিত ট্রাস্টি বোর্ড, ওসমান হাদির নামে একটি তহবিল গঠন এবং ট্রাস্টে তাঁর স্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী হাদির ভাই ওমর হাদি বলেন, ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পোস্টেই তাঁদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান তাঁদের মা। তবে তিনি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে মাসুমা হাদির দাবি, ফাউন্ডেশনটি পরিচালনা করেন ওমর হাদিই।

পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জটিলতা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের কারণেও দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জুমা বলেন, সংগঠনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সঙ্গে আর যুক্ত থাকবেন না। তবে ইনকিলাব মঞ্চের কার্যক্রমে আগের মতোই থাকবেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই সেন্টারের পরিচালনা নিয়ে আপত্তি ছিল। সেই বিরোধ দীর্ঘায়িত না করতেই বর্তমান কমিটি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।