ইরানে ১৪০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, তিন দেশে পাল্টা আঘাত তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানে তিন দফায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

উত্তেজনার সূত্রপাত হয় সপ্তাহের শুরুতে, যখন ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি’র ইঞ্জিনকক্ষে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। সেন্টকম জানায়, হামলায় জাহাজটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নাবিকরা লাইফবোটে আশ্রয় নেন এবং একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় সেটিকে থামাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর ইরান এক ঘোষণায় জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। পাশাপশি কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গোলাবারুদের গুদাম, বাহরাইনের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে আইআরজিসি। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি, গোলাবারুদের গুদাম এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মে মাস থেকে এ পর্যন্ত তারা ৮০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে এই প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এই সংঘাতের ফলে কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি ভঙ্গের জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি চললেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারীরা নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে মার্কিন কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে, ইরান গোপনে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে যে ট্যাংকারে হামলাটি একটি ভুল ছিল এবং তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি উগ্র গোষ্ঠী এই ঘটনার জন্য দায়ী।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স