নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের চারজন নিহত, আহত ২

বিয়ে বাড়ির দাওয়াতে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারীচালিত যাত্রীবাহী মিথিলার (ভ্যান)-চালক, মা ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছে। 

রবিবার (১২ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জলঢাকা-ডোমার আঞ্চলিক সড়কের একবট নামক স্থানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় এক শিশুসহ দুইজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লা হাবিব।

নিহতরা হলেন— ডোমার উপজেলার পাঙ্গামটকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়াডের নদীয়াপাড়ার ওলি বর্ম্মনের ছেলে মিথিলা (ভ্যান চালক) পরিমল বর্ম্মন রায় (৪০), নিহত পরিমলের ছোট ভাই প্রদীপ বর্ম্মন রায়ের স্ত্রী প্রতিমা বর্ম্মন রায় (৩০), তার দুই সন্তান বিপাশা বর্ম্মন রায় (৮) ও যাদব বর্ম্মন রায় (৪)। 

এ সময় নিহত প্রতিমার আহত জমজ সন্তান নম্রত বর্ম্মন রায় (৪) ও অপরযাত্রী সহিদুল ইসলামকে (৪০) গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

তাদের প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান বারী।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, পরিবারটি ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের মড়ালের ডাঙ্গা এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় জলঢাকা থেকে ডোমারের দিকে আসছিল একটি ট্রাক (বগুড়া ট ১৯-২৪৭২)। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তারা আঞ্চলিক সড়কের একবট নামক স্থানে পৌঁছালে সড়কটির বাঁকে দ্রুত গতির আসা ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহি মিথিলার পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রাকটি সড়কের ধারে পড়ে যায়।

মিথিলার চালকসহ একই পরিবারের ৪ যাত্রীরা ঘটনাস্থলে নিহত হয় ও নিহত প্রতিমার জমজ সন্তান নম্রত বর্ম্মন রায় ও অপর যাত্রী সহিদুল ইসলাম আহত হয়।

খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও এলাকাবাসী নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে ডোমার হাসপাতালে নেয়। আহত দুইজনকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই সড়কে প্রায় দুই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

নিহত প্রতীমা রানীর স্বামী প্রদীপ বর্মন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একটি বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও তিন সন্তানকে বড় ভাইয়ের সঙ্গে পাঠিয়েছিলাম। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী আর দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারালাম। আরেক সন্তান মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে হাসপাতালে। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব, কীভাবে এই শোক সহ্য করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

ডোমার থানার ওসি হাবিবুল্লা হাবিব বলেন, এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় ট্রাকটির চালক ও হেলপার ট্রাকটি রেখে পালিয়ে যায়। আইনী প্রক্রিয়া চলমান আছে।