সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি ও কর ফাঁকির বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরেন।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুল এর এক প্রশ্নের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৩–২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অংশের রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত সাময়িকভাবে মোট ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হয়েছে।
কর ফাঁকি রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, কাস্টমস সংক্রান্ত কর ফাঁকির দায়ে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭০২টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই কাস্টমস সংক্রান্ত ১ হাজার ২৯২টি মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
ভবিষ্যতে রাজস্ব আহরণ আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্ব বাড়াতে মূলত দুইমুখী কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। 'ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক' পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর ছাড় বা ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার যথাসম্ভব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও বকেয়া আদায়ে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, ঝুলে থাকা মামলা ও বকেয়া নিষ্পত্তি, নিলাম প্রক্রিয়া গতিশীল করা, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিষ্পন্ন চালান দ্রুত খালাস এবং ডেফার্ড পেমেন্ট ইত্যাদি খাত হতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সেই সাথে খাতভিত্তিক শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রজ্ঞাপন পর্যায়ক্রমে বাতিল করা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ASYCUDA World- ভিত্তিক কাস্টমস কার্যক্রম, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং এবং স্বয়ংক্রিং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং বিলাসী পণ্য ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক-কর হার বৃদ্ধি করা।