পুবের বৃষ্টি যাচ্ছে উত্তরে

বর্ষায় স্বাভাবিক বৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ী প্রভাবের বৃষ্টি যুক্ত হওয়ায় ঝরছে আকাশভাঙা বৃষ্টি। গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঝরতে থাকা এই বৃষ্টিতে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে আজ থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কমে এলেও বাড়ছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। গতকাল রবিবার ঢাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ভারী বর্ষণ হলেও আজ থেকে তা থাকবে না। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে।

ঢাকা শহরে গত শনিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৬ মিলিমিটার এবং গতকাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বৃষ্টি আজ সোমবার থেকে থাকবে না বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকা এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হলেও আজ থেকে তা থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকার মাঝখানের এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা না থাকলেও উত্তরে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ প্রভৃতি এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী এলাকা এবং সিলেটের অংশবিশেষ এলাকায়ও বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়বে। দেশের বাকি এলাকায় আজ থেকে কমতে থাকা বৃষ্টি শুক্রবার থেকে আবারও বাড়তে পারে। তবে এত ভারী হওয়ার সুযোগ নেই, বর্ষাকালে যেমন বৃষ্টি হয় তেমনই হবে।

তাহলে কি আজ সোমবারের পর থেকে বৃষ্টি কমে আসবে? এই প্রশ্নের জবাবে এ কে এম নাজমুল হক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ-নিম্নচাপটি পরবর্তী সময়ে স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থানের কারণে আমাদের দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এখন সেই নিম্নচাপের প্রভাব কমে যাওয়ায় এবার হবে বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টি।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার উপাত্ত জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তর পতেঙ্গা কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ বিশ^জিৎ চৌধুরী বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা যায়, গত ৬ জুলাই ১৩৮ দশমিক ২, ৭ জুলাই ২৮২ দশমিক ৮, ৮ জুলাই ২৮৩ দশমিক ৫, ৯ জুলাই ২৪৯ দশমিক ৪, ১০ জুলাই ২১০ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে। তবে ১১ জুলাই ২৭ দশমিক ৯ ও ১২ জুলাই ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় বলা যাচ্ছে কমছে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা।

এবার কেন এত ভারী বর্ষণ? : দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে দেশ-বিদেশে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপন করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, জুলাই মাসে দেশে স্বাভাবিকভাবেই বেশি বৃষ্টিপাত হয়। এবার কম সময়ে অধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। মূলত বৃষ্টিপাতের স্থায়ী প্রভাবকগুলোর সঙ্গে এবার অস্থায়ী প্রভাবকগুলো সক্রিয় হওয়ায় বেড়ে গেছে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা।

অস্থায়ী প্রভাবক বলতে কী বুঝানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপ, পূবালী লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশি^ক এলনিনোর প্রভাব। আর এতেই এবার কম সময়ে অধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এই বৃষ্টির বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ষায় বৃষ্টি হলেও কিন্তু বৃষ্টি শেষেই আবার গরম অনুভূত হয়। অর্থাৎ এই সময়ের বৃষ্টি মূলত উষ্ণ বৃষ্টি। 

উল্লেখ্য, বছরের জুন মাসে মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পর থেকে সারা দেশে বর্ষাকাল শুরু হয় এবং তা আগস্ট পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এ কারণে বছরের এ সময় স্বাভাবিকভাবেই বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।