বাহরাইন-কাতার-কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফের ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে চালানো বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রবিবার (১২ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত চলা দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ- জর্ডান, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও ঘাঁটিগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা রেভল্যুশনারি গার্ডসের দেওয়া বেশ কয়েকটি বিবৃতির বরাতে নিশ্চিত করেছে তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান এয়ার বেস, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ড্রোনের একটি কমান্ড সেন্টার ও কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে এই হামলার পরপরই বাহরাইনজুড়ে আকস্মিক সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। রয়টার্স জানায়, সাইরেনের আওয়াজে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানায় এবং অনতিবিলম্বে তাদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

এবারের ইরানি হামলা কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও সম্প্রসারিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারে গত এপ্রিলের পর এই প্রথম কোনো হামলা হলো।