যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে আক্রমণের ঘটনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সর্বশেষ শিপিং তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১২ জুলাই) প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১২ জুলাই) মাত্র ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। গত পাঁচ সপ্তাহে একদিনে এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা।
প্রণালিটি অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল 'হিউম্যানিটি' নামের একটি সুপারট্যাংকার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। এছাড়া 'ক্যাপিটান আন্দ্রেয়াস' নামের আরেকটি ট্যাংকারে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল কুয়েতি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। একই সময়ে তেল বোঝাইয়ের জন্য তিনটি খালি ট্যাংকার উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
তথ্যে আরও দেখা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় বেশিরভাগ তেলবাহী জাহাজ তাদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার (এআইএস) বন্ধ করে দেয়। সপ্তাহান্তে কোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজকে প্রণালিতে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক)-এর একটি ট্যাংকার ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ভারতের দাহেজ বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আরও একটি দফা হামলা চালানো হয়েছে। এতে নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, অনুমোদনহীন পথে একটি জাহাজ চলাচল এবং সেটিতে হামলার ঘটনার পর তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার দাবি করেছে, আগের রাতে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর করে সেগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজ দুটির পরিচয় প্রকাশ করেনি আইআরজিসি।