কাতারের সাবেক আমির ও ‘ফাদার আমির’ নামে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজায় পিতার মরদেহ কাঁধে তুলে শেষ বিদায় জানান তার পুত্র ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহ্যবাহী কাতারি পোশাকে হাজারো সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতার জানাজায় শরিক হন। কান্নাভেজা চোখে তারা শেখ হামাদের মরদেহের সামনে হাত তুলে শেষ বিদায়ের মোনাজাত করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেশটির উপ-আমির শেখ আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল থানি, শেখ জাসিম বিন হামাদ আল থানি, আমিরের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি এবং প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি, শুরা কাউন্সিলের স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল গানিমসহ আল থানি পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।
এ ছাড়া প্রয়াত ফাদার আমিরের পুত্ররা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক কাতারি নাগরিক ও প্রবাসী জানাজায় অংশ নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর দোহার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি এই বিদায়ের মুহূর্তটিকে একটি অত্যন্ত বিনম্র আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশাল বিত্ত আর প্রভাবের অধিকারী হলেও শেখ হামাদকে অন্যদের মতোই কবরে দাফন করা হয়েছে।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হামাদের দীর্ঘ শাসনামলে কাতারের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছিল ২৪ গুণেরও বেশি।
দেশের বিশাল গ্যাস সম্পদের উন্নয়নে তার দূরদর্শী চিন্তার কারণেই ২০০৬ সালের মধ্যে এই ছোট দেশটিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছিল।