নদীভাঙনে ভেঙে পড়ছে গাওখালী সড়ক, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পশ্চিম পাশের সড়কটি নদীভাঙনের কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নদীভাঙনে রাস্তার একাংশ ইতোমধ্যে বিলীন হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে নদী এবং অন্য পাশে গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সীমানা প্রাচীর। নদীভাঙনের কারণে রাস্তার প্রশস্ততা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীরা। অনেকেই চলাচলের সময় ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তা থেকে নিচে পড়ে আহত হয়েছেন বলেও জানান তারা। 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও নদীভাঙনের কারণে তাদের নিরাপদে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত নাজিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ গাওখালী বাজার এবং উত্তর দিকে রয়েছে দেউলবাড়ী-দোবড়া ইউনিয়ন পরিষদ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতবাড়ির মানুষের জন্য এটি অন্যতম প্রধান যোগাযোগ সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার কিংবা নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার, টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

গাওখালী স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান মাহবুব (১৬) বলেন, নদী ভাঙনের ফলে রাস্তাটি ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে। পাশাপাশি রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভেঙে গেছে ও বৃষ্টি সিজনে কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের চলাফেরা করার সময় প্রায়ই ছোট খাটো দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। পাশাপাশি পানি ও কাদায় আমাদের স্কুল ড্রেস প্রায়ই নষ্ট হয়। দ্রুত রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ ও নদী ভাঙন থেকে স্কুল ক্যাম্পাস রক্ষার দাবি জানান তিনি।  

আনিকা কবির (৩৫) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মা জানান, আমার মেয়ে গাওখালী স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। এই সড়ক থেকে তার আসা যাওয়া করতে হয়। সড়কটি ভাঙা ও সংকীর্ণ হওয়ায় আমি মেয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি। 

গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাফর বাহাদুর বলেন, আমার কলেজে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজ-সংলগ্ন সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা কলেজের পক্ষ থেকে বালির বস্তা ফেলে কিছুদিন চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু এখন সেটিও আর কার্যকর নেই। বর্তমানে অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে চলাচল করছেন, এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর আমাকে জানিয়েছে, এলজিইডিতে এই রাস্তার উন্নয়নের প্রস্তাব অনেক আগেই পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।