ফজরের পর গুরুত্বপূর্ণ তিন আমল

ফজরের নামাজের পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল রয়েছে। মুমিন বান্দারা ফজরের নামাজ আদায়ের পর সেই আমলগুলো করতে পারেন। রাসুল (সা.) ফজরের পর সূর্য উদয়ের আগ পর্যন্ত নামাজের পাটিতেই বসে থাকতেন এবং আমলগুলো করতেন। তেমনই তিনটি আমল উল্লেখ করা হলো।

আয়াতুল কুরসি : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ইমান ২৩৯৫) উচ্চারণ- ‘আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ, মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজিনহি। ই’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়ায়ুদুহু হিফজুহুমা, ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৫)

এ আয়াতটি পড়তে খুব বেশি হলে এক মিনিট সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পাঁচ মিনিট। দৈনিক ২৪ ঘণ্টা সময় থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করলে এ মহাপুরস্কার লাভ করা সম্ভব।

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া : হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার নিম্নের দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে।’ (আবু দাউদ) উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।

সুরা ইয়াসিন ও ইখলাস : হাদিসে সুরা ইয়াসিন পড়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। একবার সুরা ইয়াসিন পড়লে দশবার পুরো কোরআন পড়া পরিমাণ নেকি পাওয়া যাবে। প্রতিদিন সকালে সুরা ইয়াসিন পড়া মুমিনের কাজ। যারা আরবি ভালোভাবে পড়তে পারেন না, তারা অন্তত সুরা ইখলাস পড়তে পারেন। সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

অল্প কয়েক মিনিটের এই আমল আমাদের জীবনের দিকনির্দেশনা, আত্মশুদ্ধি এবং পরকালীন সফলতার নিশ্চয়তা দিতে পারে। তাই ফজরের পর অলসতা বা ঘুম নয়, বরং আত্মনির্মাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মোক্ষম সময় হিসেবে এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা উচিত। এই আমলগুলো আমাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের জন্য কল্যাণকর, যা আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে হেদায়েতের আলোয় পৌঁছে দিতে সক্ষম।