বর-কনে সাজে দুই রোবট

মস্কোয় হলো ইতিহাসের প্রথম ‘রোবোটিক বিবাহ’

মানুষের ঘরকন্না কিংবা কর্মক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার এখন আর নতুন কিছু নয়। তবে এবার এক ভিন্ন ও প্রতীকী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো যন্ত্রমানব বা হিউম্যানয়েড রোবট। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় আয়োজন করা হলো দেশটির ইতিহাসের প্রথম ‘রোবোটিক বিবাহ অনুষ্ঠান’। যেখানে আকদ বা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলো দুই হিউম্যানয়েড রোবট— রবার্ট ও মাটিল্ডা। মানুষের সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক কিংবা প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা নয়, বরং হিউম্যানয়েড প্রযুক্তির অভিনব অগ্রগতি প্রদর্শন করতেই এই ভিন্নধর্মী বিয়ের আয়োজন করা হয়।

ঐতিহ্যবাহী আমেজে বিয়ের আয়োজন

রাশিয়ার বার্ষিক উৎসব ‘পারিবারিক দিবস, ভালোবাসা ও আনুগত্য দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে মস্কোর ঐতিহাসিক পুশকিন লাইব্রেরিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতীকী এই বিয়েতে সাধারণ মানুষের বিয়ের প্রায় সব ধরনের রীতিনীতিই ফুটিয়ে তোলা হয়। বিয়ের আসরে বর-কনে বেশে হাজির হয়ে রবার্ট ও মাটিল্ডা তাদের আগে থেকে প্রোগ্রাম করা বিয়ের প্রতিশ্রুতি বিনিময় করে।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল ‘ডগমাটিক’ নামের একটি রোবট কুকুর, যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নবদম্পতির জন্য বিয়ের প্রতীকী ব্রেসলেট বয়ে নিয়ে আসে। দুই রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামঞ্জস্য ও সিনক্রোনাইজেশন যাচাইয়ের পর আয়োজকেরা তাদের ‘রোবট দম্পতি’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

আইনি বৈধতা নয়, এটি শুধুই প্রদর্শন

এই প্রকল্পটির পেছনে থাকা ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এই বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই এবং এটি স্রেফ একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান। রোবটের নিজস্ব কোনো আবেগ বা অনুভূতি রয়েছে— এমনটা প্রমাণ করা এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল না। মূলত গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হিউম্যানয়েড রোবটগুলো কতটা জটিল কাজ দক্ষতার সাথে করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে সাহায্য করতে পারে, তা জনসাধারণের সামনে সহজ ও বিনোদনমূলকভাবে তুলে ধরাই ছিল মূল লক্ষ্য।

প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন

রাশিয়ায় ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ জুলাই বিশ্বস্ত দাম্পত্য ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক সেন্ট পিটার এবং ফেভরোনিয়া-র স্মরণে এই বিশেষ দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। রাশিয়ার সংস্কৃতির এই প্রাচীন ও অন্যতম আবেগের উৎসবের সাথে সর্বাধুনিক রোবটিক্স প্রযুক্তির এমন মেলবন্ধন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সাধারণ ঘরোয়া রোবটগুলোও কণ্ঠস্বর চেনা, ঘরের ভেতরে পথ চিনে চলাফেরা করা কিংবা মানুষের সাথে নিখুঁতভাবে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়ে উঠছে। বিয়ের এই কোরিওগ্রাফিটি সুনির্দিষ্টভাবে প্রোগ্রাম করা হলেও, এটি প্রমাণ করেছে যে মানুষের জন্য তৈরি করা সামাজিক পরিবেশে রোবটরা কতটা নিখুঁতভাবে শারীরিক ভারসাম্য বজায় রেখে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে। অনেকে একে চমৎকার একটি প্রচারণামূলক কৌশল বললেও, প্রযুক্তিবোদ্ধাদের মতে, এটি আমাদের এমন এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখানে রোবট শুধু কাজের সহকারী নয়, বরং সমাজের চেনা একটি চরিত্র হিসেবেই মিশে যাবে।