দৈনিক দেশ রূপান্তর-এ সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার টুনিপাড়া মহল্লার দীর্ঘদিনের ভাঙা কালভার্টটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে কালভার্টটি ভেঙে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। বর্তমানে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
গত ৬ জুলাই দেশ রূপান্তর-এ ‘দুই মাস ধরে পড়ে আছে ভাঙা কালভার্ট’ শিরোনামে এবং ‘দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ’ উপশিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাগাতিপাড়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাকের উদ্যোগে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যদিও কাজ এখনো চলমান, তবে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া অংশ দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তাদের আশা, সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটবে।
স্থানীয়রা আরো জানান, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় টুনিপাড়া মহল্লাসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। কাদিরাবাদ সেনানিবাস, বনপাড়া বিশ্বরোড, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় ভ্যান ও মোটরসাইকেল ঠেলে পার হতে হয়েছে। বড় যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই কালভার্টটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বর্তমানে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
টুনিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মজিবুর রহমান (৭৮) বলেন, কালভার্টটি ভাঙা থাকায় দীর্ঘদিন আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। দেশ রূপান্তরের সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় খুব কম সময়ের মধ্যেই কালভার্টটি সংস্কার শুরু হয়েছে।
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা আবুল কাশেম (৫৯) বলেন, এই সড়কটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কালভার্টটি সংস্কার হলে শুধু টুনিপাড়া নয়, আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসন ও দেশ রূপান্তরকে ধন্যবাদ জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাগাতিপাড়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কালভার্টটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এমন সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সবসময় আন্তরিক। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।