হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। 
 
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে চলাচলের সময় মোমবাসা ও আল বাহিয়াহ নামে দুটি আমিরাতি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে একজন নাবিক আহত হন এবং আরও আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে স্থানীয় সময় রাতেই হামলা শুরু হয়। এর আগে রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, 'আজ রাতে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে, আগামীকালও হবে। তারা এটি ঠেকানোর কিছুই করতে পারবে না।' পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, ওমানের কালহাত উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি, ইউকেএমটিওর উল্লেখ করা ঘটনাটি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জানানো একই হামলা কি না। সর্বশেষ এসব হামলার বিষয়ে ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল করায় দুটি "অপরাধী" সুপারট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা জাহাজ দুটির নাম প্রকাশ করেনি এবং এগুলো আমিরাতের উল্লেখ করা একই ট্যাংকার কি না, তাও স্পষ্ট করেনি।

আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, ওয়াশিংটন জাহাজগুলোকে 'অবৈধ রুট' ব্যবহার করতে উসকানি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, 'আগ্রাসী শত্রুর' সঙ্গে সহযোগিতা করলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হবে, জলপথ পুনরায় চালু হতে দেরি হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

এদিকে বাহরাইনের রাজার গণমাধ্যম উপদেষ্টা নাবিল আলহামার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাহরাইনের আকাশসীমায় ইরানের ছোড়া কয়েকটি আকাশ হামলা সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। 

এর আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, "হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং ইরান থাকুক বা না থাকুক, এটি খোলাই থাকবে। আমরা ইরানি অবরোধ পুনর্বহাল করছি।"

আরেক পোস্টে তিনি বলেন, "এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র 'হরমুজ প্রণালির অভিভাবক' হিসেবে পরিচিত হবে। তবে ন্যায্যতার স্বার্থে এই পথ দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে নিরাপত্তা ফি নেওয়া হবে।"

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ যৌথ কমান্ড বলেছে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই এবং তারা কোনোভাবেই এ জলপথে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও এক্সে লিখেছেন, "হরমুজ প্রণালির প্রকৃত অভিভাবক ইরান এবং চিরকাল তাই থাকবে।" ট্রাম্পের ২০ শতাংশ ফি প্রস্তাবের জবাবে তিনি কৌতুক করে বলেন, "২০ শতাংশ অবশ্যই অনেক বেশি। আমরা ন্যায্য থাকব।"