অনুমোদনহীন পেট্রোল পাম্পে আগুন, দোকান ও বসতবাড়ি পুড়ে ছাই

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় একটি অনুমোদনহীন মিনি পেট্রোল পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি দোকান ও দুটি বসতবাড়ি পুড়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর বাজারের গোডাউন মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর বাজারের মেসার্স নুরু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি অনুমোদনহীন মিনি পেট্রোল পাম্পে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাম্পের তেলের ট্যাংক মেরামতের কাজ চলাকালে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের তিনটি দোকান ও দুটি বসতবাড়িতে।

খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ও নাটোর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পেট্রোল পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এর জন্য ফায়ার সার্ভিসের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তেলের ট্যাংক মেরামতের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আগুনে মোস্তফার মুদিদোকান, রেজাউল করিমের স্বর্ণের দোকান এবং সেলিমের কীটনাশকের দোকান পুড়ে যায়। পাশাপাশি মামুন হোসেন ও মোশারফ হোসেনের দুটি বসতবাড়িও আগুনে ভস্মীভূত হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী বলেন, পেট্রোল পাম্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন মালিক নুরুল ইসলাম।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, আগুনে তাঁর মুদিদোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। এতে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকেরাও অভিযোগ করেন, অনুমোদনহীন পেট্রোল পাম্পটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত হওয়ায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আক্তার হামিদ খান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে। ঘটনার সময় পেট্রোল পাম্পের মালিক নুরুল ইসলাম ও তার ছেলেকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।