আজ চূড়ান্ত হতে পারে নবম পে-স্কেল

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) পুনর্গঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে এই কমিটি প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রথম থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ ভাগ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো কারণে যদি আজ এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব না হয়, তবে পরবর্তী বৈঠকে তা চূড়ান্ত করে সরাসরি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে। 

অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই নতুন স্কেলের মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে এবং সব ধরনের ভাতা আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে পরিশোধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমানে চালু থাকা ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, মূল বেতন এক লাফে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশেষ ভাতার আর কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ জানান, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দেওয়ার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। বর্তমান বাজারে জীবনযাত্রার যে ব্যয় বেড়েছে, তাতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১৪০ শতাংশ এবং কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অত্যন্ত যৌক্তিক। এটি না করলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান ধরে রাখা এবং প্রশাসনে সততা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যেত। তিনি জানান, বেতন বাড়ার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তেমন সম্পর্ক নেই। অস্টম পে-স্কেলে সেরকম কিছু দেখা যায়নি। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মূল বেতনের পুরো অংশ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকেই দেওয়া শুরু হবে। তবে সরকারের ওপর হঠাৎ বিশাল আর্থিক চাপ কমানোর জন্য ভাতাসংক্রান্ত অংশটি দুই ধাপে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী অর্থবছরে।