যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রোমে লেবানন-ইসরায়েল বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতালির রাজধানী রোমে আবারও মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে লেবানন ও ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শুরু হওয়া এ আলোচনা বুধবারও চলবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, রোমের বৈঠক ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে এবং উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রসর হতে আগ্রহী।

লেবাননের আশা, আলোচনার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে অগ্রগতি হবে। তবে দ্রুত কোনো সমাধান হবে এমন প্রত্যাশা খুব বেশি নেই।

গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। যদিও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের ওপর কেবল তেহরানের চাপই যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে পারে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান উত্তেজনায় সেই সমঝোতাও চাপে পড়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের সীমান্তবর্তী প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি তথাকথিত 'বাফার জোন' নিয়ন্ত্রণ করছে। ইসরায়েলের দাবি, উত্তরাঞ্চলের জনপদকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতেই এ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

গত ২৬ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লেবানন সংঘাত বন্ধ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের সেনা মোতায়েন এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সম্মতি হয়। তবে এরপরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ অস্ত্র না ছাড়লে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

দুই দিনের এ আলোচনা রোমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা। ইতালিতে আলোচনা হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে দ্রুত পরামর্শ করতে পারছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার মঙ্গলবার তেল আবিবে সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নই এখন একমাত্র পথ এবং রোমের আলোচনায় ইসরায়েল ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে।

তিনি জানান, দক্ষিণ লেবাননের দুটি 'পাইলট জোন' বাস্তবায়নে ইসরায়েল প্রস্তুত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব এলাকায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা হবে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, তিনি দেশের প্রতিনিধিদলকে নির্দেশ দিয়েছেন, অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনার আগে ওই দুই পাইলট জোন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার দাবি জানাতে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানান, প্রথম পাইলট জোনের কার্যক্রম কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) লেবানন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে গত সপ্তাহান্তে মার্কিন সামরিক প্রতিনিধিদল লেবানন সফর করেছে বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।