গাজীপুরের শ্রীপুর প্রাণীসম্পদ অফিসে দেখা মিলল শিশু সিনহার। তার মন বেশ খারাপ। চেহারাটা চিন্তাযুক্ত। কারণ তার প্রিয় খরগোশ মন্টুকে কারা যেন মেরে কোমড় ভেঙে দিয়েছে। সেই থেকে দুই রাত ধরে সিনহা নিজেই খানাপিনা ছেড়ে দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে খালা জামিয়া আক্তার তাকে সঙ্গে নিয়ে আহত খরগোসহ পশু হাসপাতালে ছুটে আসেন।
শিশু সিনহা মনির বয়স ৫ বছর থাকে নানা নানীর সঙ্গে খিলপাড়া গ্রামে। শিশু কন্যাকে জন্ম দেওয়ার সময় তার মা আখিঁ আক্তার মারা যান। সেই থেকে নানা-নানী আর খালার সঙ্গেই থাকতেছে সে।
শিশু সিনহা মনি বললো তার আরও একটি বিড়াল আছে। সেটির নাম জন্টু। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে জন্টু মন্টতে নিয়ে। সে বলে আমার মন্টু (খরগোশ) ভাত,ঘাস আর চিপস খায়। আর জন্টু (বিড়াল) খায় মাছ, তার বেশি পছন্দ দুধ ভাত।
শিশু সিনহার খালা জামিয়া আক্তার বলেন, আমি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। সকালে অফিসে চলে যাই ফিরি রাতে। দুদিন আগে বাসায় ফিরে দেখি আমার মেয়ে (ভাগনি) খরগোশ কোলে নিয়ে বসে আছে। তার চোখ পানি। পরে জানলাম কেউ খরগোশের কোমড় ভেঙে দিয়েছে। তাই আজ ছুটি নিয়ে আহত খরগোশ মন্টুকে নিয়ে পশু হাসপাতালে আসছি। তিনি বলেন সিনহার সারা দিন কাটে মন্টু আর জন্টুকে আদর যত্ন করে। সময় করে করে বার বার খেতে দেয়। তার সঙ্গে প্রাণী দুটির সখ্যতা অনেক। নাম ধরে ডাকলেই তার কোলে উঠে বসে। খোরগোশ অসুস্থ হওয়ার পর সেও নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার বাবা (জয়নাল আবেদীন) ভালুকা থেকে দেড় বছর আগে খোরগোশের ছোট বাচ্চা কিনে আনলে সিনহার সঙ্গী হয়। এখনও দিন রাত তার সঙ্গী খরগোশ মন্টু বিড়াল জন্টু।
শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. গোলাম মুরশেদ মুরাদ বলেন খরগোশের কোমরে ব্যথা আছে। তবে ভেঙে গেছে নাকি তা এক্সরে করে নিশ্চিত হতে হবে। আপাতত ওষুধ দিয়েছে। দুইদিন পর কি পরিবর্তন হয় তা জানাতে বলা হয়েছে। শিশুটির খরগোশের জন্য মায়া দেখে বিস্মিত হলাম। এটা দারুন বিষয় শিশুরা আনন্দে থাকুক।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফ হোসেন বলের, প্রতিদিন আমাদের এখানে পোষা প্রাণীর চিকিৎসা চলে। মাঝে মধ্যে কিছু শিশুর প্রাণীর প্রতি মায়া দেখে বেশ ভালো লাগে। ছোটকালে প্রাণীর প্রতি দয়া হলে তাদের নরম ও মানবিক মানুষ হতে সহজ হয়। গবেষণাও তা বলে। তবে কুকুর বিড়াল পালনে জলাতঙ্ক টিকা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ কামড়ে বা আচরে আক্রান্ত হলে বাধ্যতামূলক র্যাবিস ভ্যাকসিন দিতে হবে।