কবরস্থান নিয়ে বিবাদ, কুড়িগ্রামে শতাধিক পরিবার ‘একঘরে’

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় শতাধিক পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মাইকিং করে ওই পরিবারগুলোর কাছে কোনো দোকানদারকে পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রৌমারী থানা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন (ইউএনও) আলাউদ্দিন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হাজিরহাট ও বালুর গ্রামে প্রায় দুই বছর আগে একটি কবরস্থানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে সংঘর্ষে কয়েকজন আহতও হন। সম্প্রতি হাজিরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শতাধিক পরিবারকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বৈঠকের পর মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়, কোনো দোকানদার যেন ওই পরিবারগুলোর কাছে কোনো ধরনের পণ্য বিক্রি না করেন। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এমনকি ওই পরিবারগুলোর সঙ্গে কেউ সামাজিকভাবে মেলামেশা করলেও একই ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

একই গোষ্ঠীর হওয়ায় বিনা কারণে তাদের একঘরে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আজিজুল হক। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের এই ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবুও শুধু একই গোষ্ঠীর হওয়ার কারণে আমাদের একঘরে করা হয়েছে। ওই রাতেই আমাদের বাড়িতে ঢিল ছোড়া হয়েছে। এখন কোনো দোকানদারও আমাদের কাছে পণ্য বিক্রি করছেন না।

আরেক ভুক্তভোগী আকতার হোসেন বলেন, আমরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বাড়ি থেকে বের হলেই লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজন ধাওয়া করে। আমাদের শিশুরা দোকানে গেলেও তাদের কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করা হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, একঘরে করার সিদ্ধান্তের সময় তিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, হাট ইজারাদার ও বাজার কমিটির নির্দেশ না মানলে জরিমানা করা হবে। তাই বাধ্য হয়েই তাদের সিদ্ধান্ত মেনে চলছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হাট ইজারাদার আসাদুজ্জামান বলেন, কবরস্থান নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। ওই পরিবারগুলো তা না মানায় আমরা তাদের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করছি।

বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মিঠু বলেন, তারা আমাদের সিদ্ধান্ত না মানায় তাদের কাছে পণ্য বিক্রি না করতে বলা হয়েছে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, জমি বা কবরস্থান-সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কাউকে হাট-বাজারে বয়কট বা একঘরে করার অধিকার রাখে না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।