নবম জাতীয় পে-স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নের সংক্রান্ত সুপারিশমালা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফর করছে। দলটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছে।
জানা গেছে, বৈঠকে চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছে প্রতিনিধিদলটি। আর্থিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। সংস্থাটি মনে করে অর্থের সংস্থানের উৎস ঠিক না করে এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে সংকট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি চাপ আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গতকাল (১৫ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে। সেই বৈঠকেও বাস্তবায়ন সুপারিশমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি।
জানা গেছে, গতকালের সভায় পে-কমিশনের সুপারিশকৃত নতুন পে-স্কেলে স্থান পাওয়া গ্রেডের সংখ্যা কম-বেশি করা যায় কি না সে বিষয়েও মতামত উঠে এসেছে। সুপারিশ অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের বেতন হবে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত)।
এছাড়াও গতকালের বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের নানা প্রতিবন্ধকতা, সরকারের মধ্যকার আর্থিক সংকট, বাস্তবায়নের ধাপসহ খুঁটিনাটি নানা প্রসঙ্গে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এ কমিটি সরকারকে একটি সুপারিশমালা দেবে।
সেই সুপারিশ অনুসরণ করেই মূলত নতুন এ পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়তন করা হবে। কিন্তু গতকালের বৈঠকেও তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এর জন্য পরের সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে সচিব কমিটি।
অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে-স্কেল অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে গেলেও বর্তমান বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়নে বেশ আন্তরিক। এজন্য সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করবে সরকার। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন দেখিয়ে সে হিসেবে বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন সরকারি চাকুরেরা।