জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, হাসানাহ ফাউন্ডেশন সরাসরি বন্যার ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ না নিলেও বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে কাজ করবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে ড. আজহারী বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য, নীতিমালা ও কর্মপরিধি থাকে। বর্তমান যুগ স্পেশালাইজেশনের যুগ হওয়ায় সব প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের কাজ করতে হবে- এমন প্রত্যাশা যৌক্তিক নয়। বরং নিজ নিজ লক্ষ্য ও দক্ষতার জায়গায় অবিচল থেকে কাজ করলে সম্মিলিতভাবে দেশ ও জাতির সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নওমুসলিমদের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা নয়, বরং মৌলিক দ্বীন শিক্ষা, নিয়মিত তারবিয়াহ এবং সামাজিক পুনর্বাসনকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ও লক্ষ্যভিত্তিক কাজের বিকল্প নেই।
বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর জন্য দোয়া জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী হাসানাহ ফাউন্ডেশনের কাছ থেকেও একই ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন। তাদের ভালোবাসা ও আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
আজহারী জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হাসানাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, মূল্যবোধ ও প্রজন্ম গঠনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কুরআন অলিম্পিয়াড ও সিরাত অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়েছে এবং হাদিস অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি চলছে।
এ ছাড়া আরবি ভাষা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কনফারেন্স রুমে একাধিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময় চলছে। আর্লি চাইল্ড এডুকেশন নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এবং সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।
তিনি জানান, ব্যক্তিগত অর্থায়নে হাসানাহ ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকার নিবন্ধিত অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো সদস্য, এমনকি তিনি নিজেও ফাউন্ডেশন থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন না। বরং প্রতিষ্ঠার পর থেকে দাতা-শুভানুধ্যায়ীদের পাশাপাশি ট্রাস্টিরাও নিয়মিত ব্যক্তিগত অনুদান দিয়ে আসছেন।
তবে দুর্যোগকবলিত মানুষের কষ্টে তারা নীরব থাকবেন না উল্লেখ করে আজহারী জানান, ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছে তাদের টিম। যাচাই-বাছাই শেষে সীমিত পরিসরে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে হাসানাহ ফাউন্ডেশন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, যে জাতি দায়িত্বের বিভাজন বোঝে এবং লক্ষ্যভিত্তিক কাজের মূল্যায়ন করে, সেই জাতিই টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারে। তাই নিজ নিজ দায়িত্ব ও লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে কাজ করাই সম্মিলিত উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই পথ।