৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে প্রাণিসম্পদ (লাইভস্টক) ক্যাডারে নতুন করে ১৪ জনকে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন প্রার্থীই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ২৮ জুন প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী একটি প্রফেশনাল/টেকনিক্যাল ক্যাডার পদে আরও ১৪টি রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে ওই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জন হয়েছে। প্রথম দফায় প্রকাশিত ফলাফলে লাইভস্টক ক্যাডারে ৫৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল।
এর আগে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর এই অনুষদের রিটেন ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৮ প্রার্থীর কাউকেই লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়নি। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক দাবি করে শুরু থেকেই কারিগরি ত্রুটি (টেকনিক্যাল ফল্ট) বা কোড-সংক্রান্ত জটিলতা বলে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।
সংশোধিত ফলাফলে জানা গেছে, সুপারিশপ্রাপ্ত লাইভস্টক ক্যাডারের প্রথম দশজনের মধ্যে তিনজনই শেকৃবির। এই তালিকায় প্রথম, চতুর্থ ও দশম স্থান অধিকারী প্রার্থীরা রয়েছেন। এছাড়াও ১৫তম স্থানও রয়েছে শেকৃবি শিক্ষার্থীর দখলে। ফলে এই একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫০ জনেরও অধিক ক্যাডার প্রাপ্ত হলেন।
৪৭তম বিসিএসের প্রাথমিক ফলাফলে শেকৃবির এএসভিএম অনুষদের প্রায় ১৮ জন শিক্ষার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও একজনও লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হননি। অথচ, ওই বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে ৭১টি পদ ছিল। এমন ফলাফলকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে তদন্তের দাবি জানান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পিএসসি'তেও লিখিত আবেদন করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং ফলাফলের সুষ্ঠু তদন্তসহ চার দফা দাবিতে গত ৫ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থীরা।